Articles by "Freelancing"

মেরিলিন আহমেদ

দেশে বসেই বিদেশের চার প্রতিষ্ঠান সামলাচ্ছেন তিনি। আয়ের অঙ্ক শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠে যাবে। অনলাইনের একটি মার্কেটপ্লেস থেকেই তাঁর মাসে গড়ে দুই লাখ টাকা আয় হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কে শীর্ষ আয়ের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম। তিনি বাংলাদেশি তরুণী মেরিলিন আহমেদ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের অনেকখানি এগিয়ে যাওয়ার বার্তা বহন করছেন মেরিলিন।
দেশে বসেই বিদেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া, মানবসম্পদ বিভাগ দেখাসহ প্রতিষ্ঠানের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন মেরিলিন আহমেদ। ফ্রান্সের একটি কোম্পানি তাঁকে সে দেশে চলে যেতে বললেও তিনি দেশেই গড়ে তুলতে চাইছেন মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান। ফ্রিল্যান্সিং জীবন নিয়ে সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর।
ব্যবসা ও চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত থাকলেও মেরিলিন আহমেদ নিজেকে পুরোপুরি ফ্রিল্যান্সার হিসেবেই পরিচয় দেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, এমবিএ ও পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদ–বিষয়ক ডিপ্লোমা পিজিডিএইচআর করে দেশের কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন।
সামলেছেন দেশের বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব। কিন্তু চাকরির বাঁধাধরা সময় তাঁর পছন্দ হয়নি বলে বেছে নেন ফ্রিল্যান্সিং পেশাটাকে। কারণ, এখানে নিজের স্বাধীন সময়মতো কাজ করার সুবিধা আছে। এর বাইরে নিজের সুবিধাজনক সময়কে চাকরির জন্য বেছে নিয়েছেন। গত এক বছর দেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পিজিডিএইচআর কোর্স পড়াচ্ছেন। সঙ্গে নিজের ব্যবসা শুরু করে আয়ের পরিধিটুকু বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন বহু গুণ। একসঙ্গে এখন তিন ধরনের কাজ সামলাচ্ছেন মেরিলিন।
মেরিলিন জানালেন, ফ্রিল্যান্সিং জগতে তিনি প্রধানত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের ফ্রিল্যান্সার হাতে গোনা। তিনি আপওয়ার্কের শীর্ষ আয়ের ফ্রিল্যান্সারদের একজন। সরকারের কাছ থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁকে এখন ফ্রান্সের ২৫০ জনের বেশি কর্মী আছে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ দেখতে হয়। সেখানে ১৮টিরও বেশি দেশের লোক একসঙ্গে যাঁর যাঁর দেশ থেকে কাজ করছেন।
এর বাইরে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে খণ্ডকালীন কাজ করছেন মেরিলিন। বিভিন্ন দেশের কর্মীদের নিয়োগ দিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া, প্রতিষ্ঠানের জন্য দরকারি কর্মী সংগ্রহ, কর্মীদের ছুটি, বেতন ও নীতিমালা তৈরিসহ নানা বিষয় তাঁকে দেখতে হয়। মেরিলিন জানালেন, গত তিন বছরে তিনি অনলাইনে নিয়োগ দিয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্স কর্মীকে।
ওই চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা তাঁর ওপর ভরসা করেন। সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ কারণে তাঁদের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করতে হয়। পুরো কাজ করতে হয় অনলাইনে। সময়ের ব্যবধানের সুবিধা হিসেবে তিনি ইউরোপীয় গ্রাহকদের সঙ্গেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
যেভাবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে এলেন
জবাবে মেরিলিন জানান, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার ইচ্ছে কখনো ছিল না। সে সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রসার ও প্রভাব সম্বন্ধে জানাও ছিল না। তবে করপোরেট চাকরি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে বিকল্প চিন্তা করছিলেন। চাকরি ছেড়ে তখনই এ পথে আসা। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি মার্কেটপ্লেসগুলো নিয়মিত ঘেঁটেছেন। কাজ খুঁজেছেন। অনেকের মতোই ডেটা এন্ট্রি, লেখালেখির মতো কাজগুলো পেতে আবেদন শুরু করেন। সেটা ২০১৩ সালের দিকে।
এরপর প্রথম কাজ পেতেই ছয় মাস সময় লাগে। তিনি ধৈর্য হারাননি। প্রথম কাজ সফলভাবে শেষ করার পর আরও কয়েকটি কাজ করেন। কিন্তু তিনি যে বিষয়ে দক্ষ, সে বিষয়টিতে কাজ পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা। সেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও আয় বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিংকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। একসময় কাজ পেয়ে যান এক বিদেশি গ্রাহকের, যার সঙ্গে পরে অনলাইনের বাইরেও নিজের মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শ ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
মেরিলিন থাকেন রাজধানীর বনশ্রীতে। তাঁর কার্যালয় পান্থপথে। বাবা–মায়ের বড় সন্তান তিনি। ছোট দুই ভাই আছেন, যাঁরা তাঁদের আপন পেশার ক্ষেত্রে সফল। প্রকৌশলী বাবা ও গৃহ ব্যবস্থাপক মায়ের সান্নিধ্যে মেরিলিনের ছোটবেলা কেটেছে লিবিয়ায়। সেখানে বাংলা মাধ্যমে পড়েছেন। ১০ বছর বয়সে দেশে চলে আসেন। এরপর থেকে তিনি দেশের প্রচলিত মাধ্যমে পড়েছেন। এখন তিনি মানবসম্পদ–বিষয়ক পরামর্শ, নিয়োগ ও নীতিমালা তৈরির কাজগুলো করছেন। আর অবসর মুহূর্তগুলো আজকাল তিনি বিদেশ ভ্রমণ করে কাটান।
কীভাবে এত সব সামলাচ্ছেন? এর জবাবে হেসে মেরিলিন বললেন, সবাই জয়টা দেখতে পায়। পেছনের কঠোর অধ্যবসায়, নিদ্রাহীন রাত, অশেষ ধৈর্য আর সুচিন্তিত পদক্ষেপগুলো কেউ দেখতে পায় না। তাঁর জয়ের মন্ত্র একটাই—নিজের সবচেয়ে ভালোটা দেওয়া। টাকার দিকে চেয়ে নয়; বরং মন দিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছেন। নিজেকে প্রমাণে নিজের সিদ্ধান্তই প্রয়োগ করতে হবে—এই তাড়নাটুকুও টেনে নিয়ে এসেছে অনেকখানি।
মেরিলিন জানান, ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পরিবারের দিক থেকে সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তবে বড় প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য শুনতে হয়েছে তির্যক মন্তব্য। শুরুতে বাবা–মায়ের কিছুটা আপত্তি থাকলেও পরে তাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুরুতে ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতেও কিছুটা সময়ের দরকার হয়েছে। কী করে ভালো ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে এখনো নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করে যাচ্ছেন। নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। শিখতে হচ্ছে।
নতুনদের জন্য পরামর্শ
নতুন যাঁরা ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসতে চান, তাঁদের জন্য ভাষাগত কোনো বাধা দেখেন না মেরিলিন। তাঁর মতে, কাজ শিখে পেশাদার মনোভাব নিয়ে এগোলে সফল হওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে গুগল, ইউটিউবসহ নানা শেখার উপকরণ রয়েছে। আগে শিখতে হবে, চর্চা করতে হবে। এরপর মেন্টরিং। ফ্রিল্যান্সিং পেশায় কেউ কাউকে কাজ দিতে পারে না। নিজের কাজ নিজের যোগ্যতায় আদায় করতে হয়। একজন ভালো মেন্টর অবশ্য কাজে আসতে পারে। তবে নিজের বস নিজেকেই হতে হবে।
মেরিলিন বলেন, যাঁরা সন্তান জন্মের পর চাকরি ছেড়ে বসে থাকেন, তাঁরা এ পেশায় আসতে পারেন। এ ছাড়া ঘরে বসে থাকার চেয়ে কাজ শেখাকে গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগে দক্ষতা বাড়াতে হবে। আজকাল ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি, দুই পর্যায়েই আছে।
অনেকে ইউটিউব, ফেসবুকেও টিউটোরিয়াল দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি বইও পাওয়া যায় প্রচুর। আর কিছু না হোক, নিজে থেকে অনলাইন সার্চ করেও জেনে নেওয়া যায় প্রাথমিক অনেক তথ্য। এরপর কাজে নামতে পারেন। শুরুতেই কাজের আশা না করে, নিজের যোগ্যতা বুঝে এগোতে হবে। রাতারাতি সাফল্য আসে না।
মেরিলিনের মতে, ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে। ঢালাওভাবে ফ্রিল্যান্সিং সবার জন্য—এ ধারণাটা ভুল। আবার যাঁদের দেশীয় বাজারে কাজ নেই, ফ্রিল্যান্সিং তাঁদের জন্য, সেই ধারণাও ভুল। তবে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করার দক্ষতা থাকলে কারও ভাবাভাবির দিকে না চেয়ে কাজ শুরু করে দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, কাজ যেন চাইতে না হয়, কাজই যেন আপনাকে খুঁজে নেয়, সেভাবে এগোতে হবে। এ লক্ষ্যেই নিজের একটি আন্তর্জাতিক মানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন বলে জানালেন। সূত্রঃ প্রথম আলো।


In some ways, programming is like riding a bike. You’re not going to forget how to write code if you don’t do it for a while. On the other hand, it’s a skill that takes plenty of practice to learn and even more to maintain.
Whether you’re a relative newcomer to the world of programming or a seasoned veteran, practice makes perfect. That’s why we’ve compiled a list of coding apps to help you stay on top of your game by coding wherever you are.

1. Enki

You can almost think of Enki the same way you would an exercise app. It provides you with daily workouts, but here you’re leveling up your coding skills instead of burning fat and building muscle. Simply select your language of choice and the app will keep you on track.
The app supports everyone from beginners to more experienced coders. If you’re just starting off, you can use the app to learn web technologies before moving on to JavaScript. It doesn’t just teach you how to program either. Enki also helps you learn subjects related to programming like using the Linux command line and managing version control with Git.
Enki is free to use, but an optional subscription adds premium features like additional workouts. This is fairly standard among programming apps, but with Enki, you’ll learn plenty without paying a dime.
Download: Enki for Android | iOS (Free)

2. Grasshopper













Unlike some of the other coding apps on this list that feature multiple languages, Grasshopper sticks to one: JavaScript. This makes sense as not only is JavaScript relatively easy to learn, but it’s also used for a wide range of applications.
You start off very basic by learning the fundamentals before moving on to more advanced concepts and language features. As you progress you’ll even use the D3 data visualization library to show off your skills with graphics. The Grasshopper team is always adding new courses, so you shouldn’t have to worry about running out of learning material.
To ensure you stick with it, Grasshopper motivates you to log in every day. Other apps like Todoist have used this in the past, and while it won’t motivate everyone, it could be just what you need to keep you going. At least for now, this app is entirely free with no in-app purchases.
Download: Grasshopper for Android | iOS (Free)

3. SoloLearn

SoloLearn main menu
One of the best “learn to code” apps on this list, SoloLearn earns major points for the sheer amount of learning material. Most of the other multi-language coding apps listed offer a few languages at best. SoloLearn, on the other hand, boasts impressive language support, including C, C++, Java, JavaScript, PHP, Python, Ruby, Swift, and more.
Like some of the other apps on this list, SoloLearn uses gamification to encourage you to stick with it. You’ll earn skill points and achievements while you level up your progress no matter how you learn. If you’re more competitive, you can compete with other learners around the world for a more intense challenge.
Much of SoloLearn is free to use, but not all of it. For $6.99 per month or $47.99 per year, you can subscribe to SoloLearn PRO. This removes advertisements and adds features, like the ability to set learning goals and view personalized insights about your learning.
Download: SoloLearn for Android | iOS (Free)

4. Codeacademy Go

Longtime readers may be surprised to see this app on this list. After all, in the past, we’ve told you why you shouldn’t learn to code with Codecademy. While our criticism is still valid, it could also be leveled at most of the apps on this list. As long as you keep that in mind, Codecademy Go is a great way to take the service on the go.
Why You Shouldn't Learn to Code With Codeacademy Why You Shouldn't Learn to Code With CodeacademyWhat's wrong with Codecademy? For those who want to learn coding, the instructional site is one of the best to begin with. But does Codecademy teach you to think like a coder?
This is an especially useful app if you’re already a Codecademy user. This app takes the courses and challenges from the website and presents them in app form. It’s very much a “does what it says on the tin” sort of app, but that’s not a bad thing.
The app is entirely free, with no in-app purchases. That can’t be said for Codecademy’s services as a whole, but it’s nice that you don’t have to worry about paying extra for the app.
Download: Codecademy Go for Android | iOS (Free)

5. Hopscotch

Hopscotch app
Judging by the marketing surrounding the app, you might think Hopscotch is meant just for kids. Its name in the iOS App Store is even “Hopscotch Coding for Kids.” While it’s certainly kid-friendly, don’t let that chase you away. This is more than an app for children.
Looking at the FAQ on the Hopscotch website, the app is suitable for all ages. The developers say that while it’s designed for people aged 7 to 13, 18 year-olds and even college students are learning with it as well.
While other apps focus on the fundamentals first, Hopscotch aims to have you hit the ground running. The goal is to have you creating apps or games within minutes. This can teach you the basic concepts of coding before you head for the deep end.
Unfortunately, the app is limited for the time being, as right now it’s iOS-only. The wording on the website hints that Android and/or browser support may come in the feature, but there’s no ETA so far. On the upside, there are plenty of other Android programming apps.
The app itself is free, but for continued use of premium features, you’ll need to pay the $7.99 monthly fee.
Download: Hopscotch for iOS (Free)

6. Encode

Encode
Encode offers JavaScript, Python, HTML, and CSS making it a good choice if you’re looking to learn coding for web development.
Whether you’re using Android or iOS, Encode makes coding easier by including a shortcut bar with symbols often used in coding. This saves you from having to search through your keyboard searching for different bracket symbols. The app is a few years old, and while it isn’t as popular as some others, it’s definitely worth a look.
For a while, some users avoided Encode since it was Android-only. Now there is an iOS version, so you can use it regardless of your platform of choice. The app is free to download, with a $4.99 in-app purchase for Encode Plus, which unlocks more lessons and challenges.

অনলাইনে আয়ের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। এর একটি ব্লগিং। তবে ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রেও আয়ের কয়েকটি উপায় রয়েছে। তবে সেগুলোর স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা, মান সর্বোপরি যথাযথ মাধ্যম খুঁজে পাওয়া নতুন ব্লগারদের জন্য অনেকটা কষ্টকর বটে। এই পোস্টটিতে আমি নতুন ব্লগারদের জন্য জনপ্রিয় ৫টি আয়ের মাধ্যম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি। আমি নিজেই এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে থাকি এবং আয়ের পরিমানও যথেষ্ঠ ভালো। আশাকরী পরবর্তী পোস্টে এগুলো আলাদা ও বিশদভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারবো।

১. গুগল অ্যাডসেন্স: 


ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে আয়ের সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো গুগল অ্যাডসেন্স। এটি সহজ ও জনপ্রিয় এই কারণে যে, আপনি আরপনা ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য গুগলে অ্যাডসেন্সের জন্য শুধু আবেদন করলেই হবে। আপনার অ্যাকাউন্টটি অ্যাকটিভ হলে গুগলের দেওয়া কোড আপনার ওয়েব বা ব্লগে যথাস্থানে বসিয়ে দিলেই হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার গুগল অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে।

এটি সহজ ও জনপ্রিয় হওয়ার আরেক কারণ হলো গুগল অ্যাডসেন্স তার কার্যক্রমে অশপট। গুগল প্রথমে আপনার ব্লগ বা ওয়েবের প্রতিটি লিংকে গিয়ে ক্রল করে এবং প্রাসঙ্গিক বা রিলিভ্যান্ট কি ওয়ার্ড খুঁজে বের করে। তারপর আপনার রিলিভ্যান্ট কিওয়ার্ডের সাথে সমন্বয় রেখে একই ধরণের বিজ্ঞাপন প্রদর্শণ করে। গুগলের কাছে সকল অ্যাডভারটাইজারদের সর্বশেষ ডাটাবেজ সংরক্ষিত থাকে। একারণে প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে চললে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যখন আপনার পোস্টের রিলিভ্যান্ট কিওয়ার্ডের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়, তখন ভিজিটর এই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সম্ভাবনা বেশি। গুগল অ্যাডসেন্স হলো পে পার ক্লিক সিস্টেম, তাই যখনই কেউ আপনার ব্লগে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে, আপনি গুগল থেকে একটি নিদ্দিষ্ট পরিমান অর্থ আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে কখন গুগল অ্যাডসেন্সের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন বা নীতিমালা অমান্য করবেন না। যেমন- নিজে নিজের কম্পিউটার থেকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন না বা আপনার বন্ধুদের ক্লিক করতে উৎসাহিত করবেন না। তাহলে আপনার গুগল অ্যাডসেন্সটি বাতিল হতে পারে। অ্যাডসেন্স সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি পোস্ট পড়ার জন্য এই লিংকে ক্লিক করে অথবা ক্যাটাগরি থেকে অ্যাডসেন্স ক্যাটাগরি ক্লিক করতে পারেন।

২. ডিরেক্ট অ্যাডভারটাইজমেন্ট: ব্যানার অ্যাড


যদি আপনার ট্রাফিক অনেক বেশি হয়, তাহলে আপনি আপনার ব্লগে সরাসরি ব্যানার বিজ্ঞাপন বসিয়ে ভালো আয় করতে পারেন। আপনার ভিজিটর যত বাড়বে, আপনার অ্যাডভারটাইজার অর্থাৎ যে আপনাকে বিজ্ঞাপনটি দিয়েছেন, তিনি আপনাকে বেশি পে করতে উৎসাহিত হবেন। এক্ষেত্রে আপনি ব্যানার বিজ্ঞাপনের জন্য কত টাকা নিবেন সেটি আপনার উপর নির্ভর করবে। সাধারণত একটি ব্লগে ২৫০ বাই ২৫০ পিক্সেল এর ব্যানার অ্যাডের জন্য প্রতি মাসে ৫০ ডলার পাওয়া যেতে পারেন, এটি মোটেই খারাপ নয়। যেসব ব্লগের ট্রাফিক অপেক্ষাকৃত বেশি তারা এর থেকে বেশি চার্জ নির্ধারণ করতে পারেন।

ডিরেক্ট অ্যাডভারটাইজিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এক্ষেত্রে আপনাকে নিজে বিজ্ঞাপন খুঁেজ পেতে হবে। আপনাকে তাদের কাছে আপনার ব্লগে তারা বিজ্ঞাপন দিলে কি কি সুবিধা পাবে এসব নিয়ে একটি প্রোপোজাল লেটার পাঠাতে হবে। আমি নিজেই আমার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শরনাপন্ন হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক আমার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। তবে আপনার ব্লগটি যদি জনপ্রিয় হয়, আপনি ভালো ট্রাফিক পান তাহলে আপনার ব্লগে ‘‘Advertise Here’’ লিংকটি হোমপেজে রাখতে পারেন। যদি কোনো অ্যাডভারটাইজার রাজি তাহলে তারা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

৩. ফিচার্রড ব্লগ পোস্ট


একজন ব্লগার হিসেবে অনলাইনে আয়ের একটি অন্যতম মাধ্যম ফিচার্রড ব্লগ পোস্ট। এক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞাপনদাতা তার পণ্য বা সেবার বিষয়ে একটি নিশ ব্লগে আর্টিকেল পাবলিশ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তার পণ্য বা সেবার প্রসার বেশি ও কার্যকর হয়। এছাড়া পাবলিশার এখান থেকে ডুফলো ব্যাকলিংক পেতে পারেন। ফলে প্রত্যক্ষভাবেই আপনি লাভবান হবেন।

বিষয়টি যদি ভালোভাবে না বুঝেন, তাইলে একটু খুলে বলি। ধরেন, আপনি একটি নিদ্দিষ্ট বিষয় নিয়ে যেমন ডোমেইন বিক্রি ও  ওয়েব হোস্টিং নিয়ে লিখছেন। এক্ষেত্রে আপনার কোনো পোস্টে ডোমেইন ও হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের নাম রেফার করার জন্য বলতে পারে। অথবা তাদের কাছ থেকে ডোমেইন ও হোস্টিং নিলে কি কি সেবা পাওয়া যাবে সেটি নিয়ে লিখতে পারেন। এক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানটি আপনার পোস্টের জন্য আপনাকে পে করবে। সাধারণত একটি ব্লগে প্রতিটি ফিচারর্ড পোস্টের জন্য ২৫ ডলার চার্জ পাওয়া যেতে পারে। অনেকে ফিচারর্ড পোস্টের সাথে ব্যানার অ্যাডও দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অ্যাডভারটাইজার খুঁজতে হলে ডিরেক্ট অ্যাডভারটাইজমেন্টের মতো একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটকে ফিচারর্ড পোস্টের সুবিধাগুলোসহ প্রোপ্রোজাল পাঠাতে পারেন।

৪. ব্যাকলিংক বিক্রি


ব্যাকলিংক হচ্ছে একটি সাইটের পেজর‌্যাংক বাড়ানোর মূল হাতিয়ার। একটি ওয়েবসাইটের কোন পৃষ্ঠায় যদি অন্য একটি সাইটের লিংক থাকে তাহলে দ্বিতীয় সাইটের জন্য এই লিংককে বলা হয় ব্যাকলিংক বা ইনকামিং লিংক। আর প্রথম সাইটের জন্য এই লিংকটি হচ্ছে আউটগোয়িং লিংক, অর্থাৎ এই লিংকে ক্লিক করে ব্যবহারকারী দ্বিতীয় সাইটে চলে যাবে। এইভাবে একটি ওয়েবসাইটের যত বেশি ব্যাকলিংক থাকবে সেই ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী আসার প্রবণতা বেড়ে যাবে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের রোবট প্রোগ্রাম সেই সাইটকে খুব সহজেই খুঁজে পাবে। এজন্য অনেক ওয়েব পাবলিশাররা তার ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ব্লগসাইটের শরণাপন্ন হন।

আপনার ব্লগটি জনপ্রিয় হলে আপনি আপনার সাইটে অন্যসাইটের ব্যাকলিংক বাড়ানোর কাজ করতে পারেন। বিভিন্ন আর্টিকেল ডিরেক্টরি সাইটে পোস্ট করেও ব্যাকলিংক পাওয়া যায়। এই কাজটি করা যেতে পারে। সাধারণত একটি ব্যাক লিংকের জন্য ২০/২৫ ডলার চার্জ করতে পারেন। এ কাজটি পেতে যারা ব্যাকলিংক পেতে চায় তাদের কাছে আপনাকে একজন কোয়ালিটি রাইটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাদেরকে হাই পিআর ব্যাকলিংকের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে, বিশেষ করে একটি নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এটা কতোটা আবশ্যকীয় তা জানানো জরুরী।

৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং


একজন ব্লগারের জন্য আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অনলাইনে মোট আয়ের বেশিরভাগ রেভিনিউ আসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে। অ্যাফিলিয়েশন হচ্ছে ঠিক এমনই একটি প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে কোন ওয়েবসাইট যারা নিজের ওয়েবসাইটে কোন কোম্পানির বিভিন্ন  প্রোডাক্টস অ্যাডস হিসাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ঐ কোম্পনিকে বিভিন্ন  প্রোডাক্টস অনলাইনে বিক্রয় করে দেয়ার শর্তে কমিশন ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। এই সাইট থেকে রেফারেল হয়ে যদি কোম্পানির প্রোডাক্টস কেউ ক্রয় করে তবে কোম্পানির তাদের দেয়া শর্ত অনুযায়ী তাকে (%) কমিশন দিতে বাধ্য থাকে। আর এটাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন। বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন  প্রোডাক্টস নিয়ে অফিলিয়েশন করতে দেখা যায়। যেমন বিভিন্ন খেলার লাইভ ওয়াচ, মুভি লাইভ ওয়াচ, কলিং কার্ড, আরও বিভিন্ন নিত্য দিনের প্রোডাক্টস।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে এমন পণ্য বা সেবা অ্যাফিলিয়েট করতে হবে যেটির কোয়ালিটি অবশ্যই ভালো হতে হবে। কারণ যেকোনো পণ্য বা সেবার রেপুটেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও টাকা দিয়ে পাওয়া সম্ভবন না। আমি আমার ব্লগে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিয়েট করি। তাই এক্ষেত্রে আমার পছন্দ নিশ সাইটগুলো এবং এগুলো আমার ব্লগে প্রমোট করি। এক্ষেত্রে তারা আমার সাইটের মাধ্যমে মেম্বার পান এবং আমাকে তাদের বিক্রয়ের একটি কমিশন দেন। আপনি বিভিণœ টুলের মাধ্যমে পোডাক্ট রিসার্চ করতে পারেন। যে পণ্য বা সেবাটি নিয়ে অ্যাফিলিয়েট করলে বিক্রয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি অ্যাফিলিয়েটের জন্য বেছে নেওয়া লাভজনক ও ঝুঁকি কম। অ্যাফিলিয়েট নিয়ে আরো জানতে চাইলে ‘ওয়েবসাইট অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম’ শিরোনামের পোস্টটি পড়তে পারেন।

এই বিষয়গুলো ছাড়াও আরো অনেক মাধ্যম রয়েছে যার মাধ্যমে একজন ব্লগার আয় করতে পারেন। সম্ভব ও উৎসাহ সেসব বিষয় নিয়ে লিখবো। পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। শুভ হোক আপনাদের ব্লগিং লাইফ ও ভালো থাকবেন, সেই কামনা।


“Solopreneur” isn’t a brand-new term but it has definitely become more relevant in recent years. The word is easily interchanged with the word “entrepreneur,” but there are distinct differences. As an increasing number of professionals choose to start a business with no intention of ever adding staff, solopreneur is likely a term that will only grow in popularity.
The differences between solopreneurs and entrepreneurs can be subtle, especially since some entrepreneurs work alone until they can build their businesses enough to make a team. However, those who choose solopreneurship over entrepreneurship without plans to change have distinct differences.

Solopreneurs don’t wait for a buyout.

An entrepreneur works hard to build his business but he isn’t quite as attached to the concept as a solopreneur. Many, but not all, entrepreneurs build their businesses with at least a small hope that a much larger company, like Google, will come along and offer millions of dollars for it once it grows. At that point, he could easily move on to the next great venture.
Of course, many entrepreneurs have turned down buyout offers to continue pursuing a passion, so this isn’t a defining difference. However, a large divide between the two may come when an entrepreneur can run a variety of businesses over the course of his career, while a solopreneur tends to work at one thing consistently.

Entrepreneurs put a face to a company.

While a solopreneur tends to spend hours working hard to build his business, an entrepreneur frequently prefers to be out making connections and getting the word out about his or her business. An entrepreneur may be perfectly happy doing that and that alone, leaving his team behind to do the work.
Solopreneurs can be great networkers, as well. One major difference is that an entrepreneur may be more comfortable spending all day at a variety of networking opportunities and client meetings, while a solopreneur is content simply doing the work.

Entrepreneurs are managers.

When someone is an entrepreneur at heart, even as a solopreneur, he’s waiting for the day when he can build his team. He may even begin working with freelance workers and virtual assistants to delegate his work. He is comfortable leading a team of people toward a defined goal.
Solopreneurs, on the other hand, likely are in no rush to hire an employee to manage. Even if the day comes when they must outsource work or bring in a team member, a solopreneur may find himself pitching in and doing the vast majority of the work himself. He may even have a hard time letting go of tasks, since he simply wants to jump in and work hard to grow his business.

Solopreneurs are workers.

While entrepreneurs can work harder than anyone they know, a solopreneur is a worker by his very nature. If a task needs to be done, his first thought is to roll up his sleeves and start working. For this reason, this new generation of freelance workers and sole proprietors have emerged, with professionals content to run a one-man shop with no intention of bringing another person on.
Entrepreneurs, on the other hand, have no trouble delegating, even if they have to delay that process until they have enough money to bring additional workers on. They realize the sooner they can delegate tasks like billing, web development and database management, the sooner they can focus on building and growing their businesses.

The distinction between a solopreneur and entrepreneur can be difficult to see, especially since so many entrepreneurs start out working alone. But the mindset of a solopreneur and entrepreneur are subtly different and noting those differences can help professionals determine the long-term direction they’ll take with their businesses.
I've met some of the best solopreneurs in the world. They make some of the best partners. Know which type of an "preneur" you are so that you can best find how to work with yourself and others.

আমরা  রঙ্গিন এক দুনিয়াতে বসবাস করি। তাকিয়ে দেখুন নীল আকাশ, সবুজ প্রান্তর, সাদা মেঘ, লাল গোলাপ, সোনালী রোদ্দুর, নীল অপরাজিতা, কাল কোকিল সবই আপনাকে আকর্ষনের চেষ্টা করছে। ভেবে দেখেছেন কি, সবুজ বৃন্তে লাল গোলাপ অথবা  নীল আকাশের নীচে হলুদ-কমলা সূর্যমুখী কেন বেশী ভালো লাগে?  কেন ?
আচ্ছা ভেবে দেখুন তো,
হলুদ রঙয়ের রুমে আপনার মাঝে অজানা উদ্বিগ্নতা কাজ করে কি?
কিংবা, নীল রং আপনার মাঝে কি শান্ত এবং স্বচ্ছন্দতার অনুভূতি জাগায়?
রংয়ের পরিবর্তন আমাদের মন, মেজাজ,আবেগ এবং অনুভূতিতে আসলেই কি নাটকীয় কোন পরিবর্তন আনতে পারে? 
উত্তর হল হ্যা, রংয়ের পরিবর্তন আমাদের মন, মেজাজ,আবেগ এবং অনুভূতিতে আসলেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজতে গিয়ে আর্টিষ্ট এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররাও অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন।


এখন আসি, আমরা কেন বিচিত্র সব রঙ দেখি!!!

আসলে উৎস হতে নিক্ষিপ্ত আলো যখন বস্তুর উপর পতিত হয় তখন এর কিছু অংশ  বস্তু কর্তৃক শোষিত হয় এবং অবশিষ্ট অংশ প্রতিফলিত হয়। এই এই প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে বিভিন্ন রঙের অনুভুতির সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে একেক বস্তুকে আমরা একেক রঙে দেখতে পাই।
সহজাতগতভাবেই আমাদের মন রংয়ের প্রতি সংবেদনশীল, নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনেও রং আমাদের চিন্তা ও আবেগকে খুব সহজে নাড়া দিতে পারে। তাই কোন ডিজাইন যে গোপন অর্থ বহন করে সেটা তাৎক্ষনিকভাবে বুঝে নিতে রং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে রং একটি পাওয়ারফুল কমিউনিকেশন টুল, শুধুমাত্র কালার ইফেক্টের ব্যবহার মানুষের মাঝে কেনাকাটার মত অভ্যাসেও বিস্তর পরিবর্তন আনতে পারে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, কিছু রং মানুষের ব্লাড প্রেসার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি অনলাইন শপিং, এডভার্টাইজিং, মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে প্রায় ৮০ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতার আকর্ষণ বাড়াতে রংয়ের ব্যবহারকে উল্লেখযোগ্য বিবেচনা করা হয়।
তাই নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনে যে পার্টগুলো গ্রাফিক ডিজাইনারেরা ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী হল কালার বা রঙ। এজন্যেই সঠিকভাবে জেনে রংয়ের ব্যবহার করা ফটোগ্রাফার, গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

মনের উপর রঙের প্রভাব

রঙয়ের ব্যবহার যেহেতু মানুষের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে বিরাট ভূমিকা পালন করে তাই কালার ইফেক্টের কিছু সার্বজনীন অর্থও রয়েছে। তাই গ্রাফিক ডিজাইনে বিভিন্ন রঙয়ের ব্যবহার কি অর্থ বহন করে সেটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। বিভিন্ন রং আমাদের মনে বিভিন্ন অনুভুতির সৃষ্টি করে,  তাই রঙ এবং এর ব্যবহারে হতে হয় সতর্ক ।চলুন জেনে নিই মনের উপর বিভিন্ন রঙ এর ভূমিকা কেমন হতে পারে।

সাদাঃ

শুদ্ধতা ও শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা রং এর ব্যবহার বিশ্বজনীন। ডিজাইনে এই রঙটি সাধারণত রিভার্সড টেক্সট কিংবা নেগেটিভ স্পেসিং এ বেশী ব্যবহৃত হয়, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ(WWF) এর লোগোটা দেখুন, আশা করি পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন।


মানুষের মনে সাদা রঙ সাধারণত যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ পরিচ্ছন্নতা, সত্যনিষ্ঠ, শান্তি, শুদ্ধতা, স্বচ্ছতা, সরলতা।
নেতিবাচকঃ শূন্যতা, উদাশীনতা।

কালোঃ

সাদার পরই যে রঙ এর কথা আসে সেটা হল কালো। সাধারণ কিন্তু কর্তৃত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী একটি রঙ। সম্পদশালী এবং সুরুচিপূর্ণতাকে যেমন তুলে ধরে তেমনি অশুভ ভয় এবং বিষন্ন ভাবের প্রতিকৃতি মনে জাগিয়ে তুলে। আবার এর শৈল্পিক ব্যবহার মনে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক বাধা সৃষ্টি করে যেন মনে হবে আপনার দিকে আসা সকল অপশক্তিকে শুষে নিচ্ছে।
সাধারণত কালো রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ বোল্ডনেস, কর্তৃত্ব, বিশুদ্ধতা, নিয়মানুগত্য, রহস্য, গুরুত্বপূর্ণ ।
নেতিবাচকঃ ভয়, নিপীড়ন, উদাসীনতা।

 সবুজঃ

নতুন জীবন এবং নতুনের মতো করা বুঝাতে সবুজ রঙের ব্যবহার উল্লেখ করার মত। সবুজ রঙ মনে যেমন প্রশান্তি ও স্বচ্ছন্দতা জাগিয়ে তুলে তেমনি অপরিপক্কতাকেও তুলে ধরে। প্রায়ই বিভিন্ন কোম্পানীর লোগোতে এই রঙের ব্যবহার চোখে পড়ে, বিষেশত যারা নিজেদেরকে ইকো-ফ্রেন্ডলি হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। এনিমেল প্ল্যানেট চ্যানেলের লোগোটি এর বড় উদাহরণ।


সাধারণত সবুজ রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ টাটকা, প্রাকৃতিক, ছন্দ, সুস্বাস্থ্য, নিরাময়।
নেতিবাচকঃ কোমলত্ব, একঘেয়েমি।

লালঃ

সবচেয়ে লম্বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হওয়ায় লাল বেশ শক্তিশালী একটি রং, তাই খুব দূর থেকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। লাল রঙের এই ধর্মের কারণেই ট্রাফিক লাইটে এর ব্যবহার বিশ্বব্যাপী। লাল এমন একটি গাঢ় রঙ যা মানুষের মনে ভালবাসার মত তীব্র আবেগ জাগানো থেকে শুরু করে ব্লাড প্রেসার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। লোগো ডিজাইনে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।


সাধারণত লাল রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ সাহসিকতা, প্রবলতা, উষ্ণতা, শক্তি, ফাইট অর ফ্লাইট, উদ্দীপনা, উত্তেজনা।
নেতিবাচকঃ আক্রমনাত্মকতা, আগ্রাসন, মানসিক চাপ সৃষ্টি।

নীলঃ

নীল এর সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট লাল এর পুরুই উল্টোটা, কারণ লাল রং কাজ করে ফিজিক্যালি আর নীল রং কাজ করে মেন্টাললি। নীল রং খুব সহজেই মনের মাঝে শান্ত করার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে। বেশীরভাগ মানুষেই একটা ব্যাপারে একমত যে, ডিজাইনে অন্তত একটা নীল শেড থাকলেও সেটা তাদের প্রিয় হয়ে উঠে। বেশীরভাগ মানুষের প্রিয় রং নীল, তাই নীল রং কে বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রিয় রং বলা হয়। এমনকি রিসার্চেও এটা প্রমাণিত হয়েছে।
নীল রঙ মানুষের মনে যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ বুদ্ধিদীপ্ততা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রশান্ত ভাব, আস্থা, প্রত্যয়, নির্মলতা, বিশ্বাস।
নেতিবাচকঃ নির্লিপ্ততা, আবেগশূন্যতা।

হলুদঃ

অত্যন্ত দৃষ্টিগোচর একটি রং এবং দেখার জন্য সব থেকে সহজতম রং। তাই খুব সহজেই মানুষের মাঝে উদ্দীপনা জাগাতে পারে। হলুদ রং এর সঠিক ব্যবহার আমাদের মনে যেমন প্রফুল্লতা এবং আত্মসম্মানবোধকে জাগিয়ে তুলে তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার ভয় এবং উদ্বিগ্নতাকে জাগিয়ে তুলে।


মানুষের মনে হলুদ রঙ যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ আত্মমর্যাদা, বুদ্ধিদীপ্ততা, আগ্রহ, আনন্দ, ইতিবাচকতা, সূর্যোদয়।
নেতিবাচকঃ নির্লিপ্ততা, আবেগশূন্যতা।

বাদামীঃ

লাল, হলুদ এবং কাল এর সমন্বয়ে রঙটি গঠিত। এর ফলে বাদামী রং মস্তিস্কে কালো রঙের মতই প্রভাব ফেলে কিন্তু এটি তুলনামূলকভাবে উষ্ণ এবং কোমলতার অনুভূতি জাগায়। বাদামী রংকে বলা হয় প্রকৃতির রং, এই রঙটি প্রাকৃতিক বা অর্গানিক বস্তুর সাথে সম্পর্কিত। বেশীরভাগ ডিজাইনাররাই পিউর ব্ল্যাক ব্যবহার করার চেয়ে বাদামী রং ব্যবহারের সাজেশন দিয়ে থাকেন।
মানুষের মনে বাদামী রঙ যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ গুরুত্ব, আন্তরিকতা, প্রাকৃতিক, নির্ভরযোগ্যতা, সাপোর্ট।
নেতিবাচকঃ রসবোধের অভাব, রাশভারী।
কোন রং মানুষের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে সেটা অনেকখানি নির্ভর করে কিভাবে কোথায় রঙটি ব্যবহৃত হয়েছে, তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনে রঙের ব্যবহার এবং সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট জানার পরই যে বিষয়টি চলে আসে সেটা হল রং এর ব্যবহার।  গ্রাফিক্স ডিজাইনে রং এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে আরও কিছু বিষয় আগে জানা লাগবে। সেগুলো মধ্যে একটি হল রং এর শ্রেণীবিভাগ –

অনেক আগে লাল, হলুদ এবং নীল এই তিন রংকে মৌলিক রং বলে ধরা হয়। রং কে আবার ভাগ করা হয়েছে এইভাবে –
১) First Order Colours
২)Second Order Colours
৩)Third-Order Colours

First Order Colours- এই রঙ গুলি হলো Red, Yellow, blue লাল, হলুদ এবং নীল অন্য কোন রং মিশ্রনে তৈরী করা যায় না।

Second Order Colours – এই রংগুলি হলো Red, Yellow, blue লাল, হলুদ এবং নীল এই তিন রঙের মিশ্রনে তৈরী হয়। যেমন – কমলা, সবুজ, বেগুনী।

Third-Order Colours- যা  Second Order Colours  এবং মৌলিক রং এর মিশ্রনে তৈরী হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে রং নিয়ে খেলা করতে চাইলে আরও কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া লাগবে। সেগুলো হচ্ছে-
১.Complementary Colors
২.Simultaneous Contrast
৩.Complementary Ratios
৪. Harmonizing Colors.
এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করুন, রং এর ব্যবহার সম্পর্কে আরেকদিন বিস্তারিত আলোচনা করবো। আপডেট পেতে চোখ রাখুন এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এ।

পরিশেষে বলা যায় প্রতিটি রংই মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষজ্ঞদের গবেষনায় দেখা গেছে প্রতিটি রং মানুষের মনে কিভাবে প্রভাব ফেলে সেটার অনেকখানি মানুষের ব্যক্তিত্ব, সমাজ এবং পারিপার্শ্বিকতার উপরও নির্ভর করে। তাই রং কিভাবে মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলে সেটা নিয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে।

আঁকা ঝোঁকাতে ঝোক বেশি! ক্রিয়েটিভ কিছু করতে মন চায়? সময় পেলেই কম্পিউটারের পেইন্ট টুলস, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর নিয়ে গাছ, পাখি, ফুল, ফল, বাড়ির দৃশ্য বা কারো নাম বা ছবি নিয়ে কাজ শুরু করে দেন? পার্ট-টাইম বা ফুল টাইম কাজ খুঁজছেন? অথবা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে অপেক্ষাকৃত বেশি আয় করতে চান? তাহলে ভেবে চিন্তে নেমে পড়ুন গ্রাফিক্স ডিজাইনে। অন্যান্য সব চাকরির থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন পেশাটি সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝামেলা বিহীন। নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন বলার কারণ হলো অন্যান্য সব পেশার বিপরীতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কোনো কাজের অভাব হয় না । এটা একটি সন্মানজনক পেশাও।


গ্রাফিক্স ডিজাইনার কে?
আমরা প্রথমেই জেনে নিই গ্রাফিক্স ডিজাইনার কে বা তার কাজ কি। তার আগে বলি, গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো আর্ট বা কলা’র এ মাধ্যম। ডিজাইনার তার কাজের মাধ্যমে এন্ড ইউজার অর্থ্যাৎ সর্বশেষ ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি ভালো প্রভাব ফেলতে পারেন। যেটি সেই ব্যবহারকারীর ব্রেইন এ একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেন তিনি, যিনি গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী বেশ কিছু কালার, টাইপফেস, ইমেজ এবং অ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে তার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হন। এটার আউটপুট ডিজিটাল বা প্রিন্ট উভয়ই হতে পারে। আর বর্তমান সময়ে সচরাচর পাওয়া বিভিন্ন টুলস ও লেআউট ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার কাজকে আরো বেশি ক্রিয়েটিভ ও গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি তৃপ্তি দিতে পারছেন।

কাজের ক্ষেত্র
একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের দায়িত্ব হলো তার কাজ, পণ্য বা সেবার ওভারঅল লুক ও ভাবমূর্তি ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া ডিজাইন করা যতোই ভালো পণ্য হোক না কেনো সেটি প্রথমেই ব্যার্থ হবে। তাই একটি নিদ্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ক্রিয়েটিভিটি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মানকে উন্নত করে। তাই নিজেকে ভালোভাবে তৈরি করতে পারলে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের অভাব হয় না! সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সম্প্রতি দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ গ্রাফিক্স ডিজাইনার আত্বনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী।
একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে ইন্টার্যা ক্টিভ মিডিয়া, প্রমোশনাল ডিসপ্লে, জার্নাল, কর্পোরেট রিপোর্টস, মার্কেটিং ব্রোশিউর, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, লোগো ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইনসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। লোকাল মার্কেট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেটাই বলি না কেনো প্রতিনিয়ত গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজের পরিমাণ বাড়ছে।



গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা কি প্রধান বিষয়?
আসলে সত্যি বলতে কি, পেশা হিসেবে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বিষয় না। এখানে মূলত আপনার কাজের দক্ষতাই প্রধান বিষয়। আপনার ক্রিয়েটিভিটিউ আপনাকে সফলতা উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের প্রত্যাশা মূলত গ্রাফিক্স ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা, ফাইন আর্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রি বিষয়টি চান। তবে সব ক্ষেত্রেই তারা কাজের দক্ষতার বিষয়টি আগে গুরুত্ব দেন। তাই আপনাকে আগে কাজের ক্ষেত্রে যোগ্য হতে হবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আয়
প্রশ্নই আসতে পারে প্রতি মাসে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আয় কত হতে পারে? এ সম্পর্কে ডিজাইনারদের বেতন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিজাইনার স্যালারিজ এর মতে, একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার প্রতি বছরে গ্রাফিক্স ডিজাইন বা এ সম্পর্কিত চাকরি বা কাজ করে ১ লাখ ডলার সেই হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করতে পারে। বাংলাদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনে ডিপ্লোমাধারীর বেতন মাসে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে ব্যাচেলর ফাইন আর্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের বেতন মাসিক ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনি একটি লোগো ডিজাইন করলে ৫ থেকে শুরু করে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে দক্ষতার ক্ষেত্রে ও বেশি ক্রিয়েটিভ কাজ হলে এটি ৫ হাজার ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এছাড়া একটি ওয়েবসাইটটের ফাস্ট পেজ ডিজাইন করার ক্ষেত্রে ৫০ ডলার থেকে শুরু করে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। ৯৯ডিজাইন’স ডটকম, ফ্রিল্যান্সার কনটেস্ট, ওডেস্কসহ অনেক ওয়েবসাইট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে আপনি এই কাজগুলো পাবেন। মূলত কাজের মান ও ক্রিয়েটিভি এর উপরই ভিত্তি করে আপনার আয় নির্ভর করবে।

কোথায় শিখবেন?
প্রফেশন হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনকে নিতে অবশ্যই কোনো ভালোমানের ডিজাইনার বা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের অন্যতম পথিকৃত (আই.টি.পারক-যশোর) হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ! আমরা আপনাকে সুপার দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে তৈরি করার লক্ষ্যে ৩-৭ মাসব্যাপি ‘প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন’ প্রশিক্ষণটির আয়োজন করেছি।

কি কি শেখানো হবে?
বর্তমানের বাজার চাহিদা বোঝার জন্য একজন ডিজাইনারকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সফটওয়্যারের ব্যবহার জানা জরুরী। গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স করার জন্য কোর গ্রাফিক্স ডিজাইন, টাইপোগ্রাফি, গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার ও টুলের ব্যবহার, মার্কেটট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা ও অনলাইন মার্কেটেপ্লেসে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে তাত্বিক ও ব্যবহারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।


ফরেক্স ইন্ডিকেটর কি?
ফরেক্স ইন্ডিকেটর হচ্ছে মূলত প্রাইস আপ-ডাউনের একটি চিত্রভিত্তিক নির্দেশনা। ইন্ডিকেটর মার্কেটের পূর্ববর্তী পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে আপনাকে ধারনা দিবে। সহজ কথায়, বর্তমান প্রাইস থেকে পরবর্তী পাইস ডাউন করবে কি আপ হবে সেই নির্দেশনা আপনি ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে পাবেন। সকল ট্রেডার তাদের ট্রেডের টেকনিক্যাল এনালাইসিস করার সময় জনপ্রিয় বেশ কিছু ইন্ডিকেটর এর সাহায্য নেন।

ফরেক্স ইন্ডিকেটর কীভাবে কাজ করে?
কিছু লজিক এর সাহায্যে একটা ইন্ডিকেটর তৈরি করা হয় যার কাজ হচ্ছে ফরেক্স এ প্রাইস কোন দিকে আছে আর কোন দিকে যেতে পারে তার একটা ধারনা দেয়া। টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর জন্য ইন্ডিকেটর একটি বড় এবং মৌলিক হাতিয়ার। মোটামুটি সব ট্রেডাররাই ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে ট্রেড করতে পছন্দ করে। বেশ কিছু শক্তিশালী ইন্ডিকেটর আছে যেগুলো আপনার ট্রেডিংকে অনেক সহজ করে দেবে।

ফরেক্স ইন্ডিকেটর সম্পর্কে কেন জানব?
ফরেক্স ইন্ডিকেটর সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকলে আপনার ফরেক্স ট্রেডিং এ লাভের সম্ভাবনা অনেকগুনে বেড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশের ট্রেডারদের ফরেক্স সম্পর্কে ধারনা অনেক কম। আমরা অনেক সময় উল্টোপাল্টা ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করে ভুল সিদ্ধান্ত নেই এবং লসের মুখে পরে যাই। অনেক গুলো ইন্ডিকেটর একসাথে ব্যবহার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ট্রেডে সফল হওয়ার জন্য ৫-৬টি ইন্ডিকেটর সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখলেই হয়। আপনি যদি নতুন ট্রেডার হন তাহলে ট্রেড ওপেন করার সময় ২-৩টি আর ক্লোজ করার সময় ২-৩টি ইন্ডিকেটর ব্যবহার করতে জানলেই যথেষ্ট। আপনি নিজেই নিজের পছন্দ মত একটি ইন্ডিকেটরের সেট বা ইন্ডিকেটর প্যাকেজ তৈরি করুন। এতে করে আপনার ট্রেডে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলে এবং সফলতার সাথে ট্রেড করতে পারবেন।

জনপ্রিয় ফরেক্স ইন্ডিকেটর সমুহঃ
আপনি যদি নতুন ট্রেডার হন, তাহলে ট্রেড ওপেন করার জন্য নিচের ইন্ডিকেটর গুলো ব্যবহার করলে ভাল করবেনঃ
• Moving Average (মুভিং এভারেজ)
• Bollinger Band (বলিঙ্গার ব্যান্ড)
• Slow Stochastic (স্লো স্টকেস্টিকস)
নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেড ক্লোজ করার ক্ষেত্রে নিচের ইনডিকেটর গুলো ব্যবহার করা ভালঃ
• Moving Average Convergence & Divergence- MACD (এম.এ.সি.ডি)
• Relative Strength Index- RSI (আর.এস.আই)
• Average Directional Moving Index-ADX (এ.ডি.এক্স)
এই ইন্ডিকেটর সমুহ নিয়ে পরবর্তী পোস্টে বিস্তারিত বলব। আজ আসুন আমরা শিখে নেই কীভাবে আপনি ইন্ডিকেটর ওপেন করবেন?


ইন্ডিকেটর যেভাবে ওপেন করতে হবেঃ
• প্রথমে আপনার MT4 ওপেন করুন
• insert >indicators> এ গেলেই indicator list পাবেন
• সেখান থেকে আপনার পছন্দের indicator টিতে click করুন
আপনি option থেকে আপনার পছন্দের indicator টি ব্যবহার করতে পারেন। এখানকার প্রতিটি indicator আলাদা আলাদা ভাবে মার্কেটের অবস্থান প্রকাশ করে। আপনি চাইলে নিজে নিজেও indicator বানাতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে mql ভাষা শিখে নিতে হবে। মার্কেটে অনেক indicator পাবেন তার জন্য আপনি প্রথমে ওই indicator টি download করে তার পর আপনার mt4 software টি যেখানে আছে সেই folder এ গিয়ে সংযুক্ত করা লাগবে।

যেভাবে মেটাট্রেডারে ইন্ডিকেটর যোগ করবেনঃ
• প্রথমে আপনার ইন্ডিকেটরটি কপি করুন। ইন্ডিকেটর সাধারানত mq4, ex4, mq5, ex5 ফরম্যাটে থাকে।
• যেই ফোল্ডারে আপনার মেটাট্রেডার সফটওয়্যারটি আছে সেই ফোল্ডারে যান।
• indicators ফোল্ডারে ইন্ডিকেটরটি পেস্ট করুন।
• আপনার মেটাট্রেডার সফটওয়্যারটি রিস্টার্ট করুন।
• ইন্ডিকেটরটি আপনার চার্টে যোগ করার জন্য আপনার মেটাট্রেডার সফটওয়্যার থেকে Insert > Indicators > Custom. তারপর আপনার ইন্ডিকেটরটি সিলেক্ট করুন।

কোথায় পাবেন ইন্ডিকেটর?
বেশিরভার ইন্ডিকেটর ডিফল্ট আকারে আপনার মেটাট্রেডার সফটওয়ারে দেওয়া থাকবে। তবে আপনি চাইলে এর বাইরেও অনেক ইন্ডিকেটর ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

এক হাজারেরও বেশি ইন্ডিকেটর ডাউনলোড করুনঃ ফরেক্স ইন্ডিকেটর

নতুন ট্রেডারদের জন্য কিছু পরামর্শ
একটা জিনিস মনে রাখবেন- কখনো পুরোপুরি ইন্ডিকেটর নির্ভর হয়ে ট্রেড করা উচিত নয়। মার্কেটে অনেক ফ্রি কমার্শিয়াল ইন্ডিকেটর পাওয়া যায়। আপনি আপনার পছন্দ মত কিছু ইন্ডিকেটর বাছাই করুন। এগুলো ব্যবহার করবেন মার্কেটে প্রাইস আপ- ডাউন এর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারনার জন্য। কিন্তু এ ধারনার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাল করে ভেবে দেখতে হবে। আপনি যে সব স্ট্র্যাটেজি জানেন সেই অনুসারে অর্ডার করতে ইন্ডিকেটর আপনাকে সাহায্য করবে এবং আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। তবে প্রত্যেকটা ইনডিকেটর ব্যবহারের আগে সেটা ভালভাবে বুঝে নেবেন এবং ডেমো একাউন্টে প্র্যাকটিস করে ইন্ডিকেটর এর সাকসেস রেইট বুঝে নেবেন। আপনি যখন বুঝবেন ইনডিকেটরটি আপনাকে লাভ করতে সাহায্য করছে তখন আপনি লাইভ মার্কেটে তা এপ্লাই করবেন।
আজ আমরা ইন্ডিকেটর কি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করলাম। পরবর্তী পোস্টে কিছু জনপ্রিয় ইন্ডিকেটর এর ব্যবহার এবং তা থেকে বাই ও সেল এর সিগন্যাল বোঝার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নতুনরা হয়ত অনেক জবেই অ্যাপ্লিকেশন করছেন কিন্তু কোন রিপ্লাই পাচ্ছেননা । অনেকের প্রশ্ন কেন জব পাচ্ছেন না, এর অন্যতম কারণ কি হতে পারে, এর থেকে সফল হওয়ার উপায় ইত্যাদি। জানলে একটু অবাক হবেন, সমীক্ষায় গিয়ে দেখে গেছে, পুরাতনদের তুলনায় নতুনদের অনেক অনেক কাজ পাওয়ার হার বেশি। একজলকে দেখে নিই সম্ভাব্য কি কি কারণে আপনি মার্কেটপ্লেসে  কাজ পাচ্ছেন নাঃ

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস:



১। কাজ না পাওয়ার অন্যতম হলো —জব অ্যাপ্লিকেশন করার সময় কি কাজ করতে হবে তা সঠিকভাবে জেনে না নেওয়া।

২। জব ডিটেইল এ কিছু কিওয়ার্ড উল্লেখ করা থাকে যা আমরা সঠিকভাবে উত্তর না দিয়ে জব আপ্লিকেশন করি। যে কারনে ক্লায়েন্ট আর আপ্লিকেশনের উত্তর প্রদান করেন না।

৩। দেখা গেছে অনেকেই একই কভার লেটার বারবার কপি করে ব্যবহার করেন, যা নির্দিষ্ট জবের জন্য হয়তো অপ্রাসঙ্গিক। এবং জবের জন্য ক্লায়েন্টের নজর কাড়তে পারেনা।

৪। মাঝে মাঝে কিছু বায়ার জব ডিটেইলে বলে দেন আগের করা কোন কাজের স্যাম্পল কিংবা পোর্টফোলিও এটাচ করে দেয়ার জন্যে। সেক্ষেত্রে কভার লেটারের সাথে ফাইল এটাচ করে দিতে হয়। তবে অরিজিনাল ফাইল দেয়া থেকে বিরত থাকুন। আর পোর্টফোলিও গুলো আগে থেকেই সাজিয়ে রাখুন। কারণ কাজ পাবার ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও অনেক ভাল ভূমিকা রাখে।

৫। পোর্টপলিও- আপনার যদি ভালো প্রোটফোলিও থাকে তাহলে কাজ পাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি । সবসময় আপনি যে প্রজেক্ট এর কাজ শেষ করবেন তারপর তা আপডেট করে নিন ।

৬। কাজের রেট কমিয়ে বিড করছেন?
আচ্ছা, ধরুন দোকানে গিয়েছেন মাম পানির বোতল কিনতে; দোকানদার দাম হাকলেন ১৫ টাকা। আরেক দোকানে গিয়ে দেখলেন সেটি ১০টাকা। আপনি আগে থেকেই জানেন মাম পানির বাজারদর ১৫টাকা। এখন কোয়ালিটির কথা চিন্তা করলে কোনটি কিনবেন?

৭। কাভার লেটার লেখার সময় অনেকে বানানের প্রতি খেয়াল রাখেন না। এটি কাজ না পাওয়ার অন্যতম আর একটি কারণ।
উপরুক্ত বিষয় গুলো যদি মাথায় রেখে কাজ করেন তাহলে হয়তো খুব সহজেই আপনি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠবেন।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget