Latest Post


যারা সার্চ ইঞ্জিন অপাটিমাইজেশন বা ব্লগিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন তারা অনেকেই জানেন এবছর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন [এসইও] এর ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে গুগলের সর্বশেষ পেঙ্গুইন ও পান্ডা আপডেটের পর এসইও রিলেটেডদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এই দুইটি আপডেটের পর অনেকেই সার্চ ইঞ্জিনে ভালো অবস্থানে এসেছেন আবার অনেকেই ফল করেছেন। বিশেষ করে ব্যাকলিংকের ক্ষেত্রে অনেক প্রভাব পড়েছে গুগলের এই ডাটাবেজ আপডেটের ফলে। আর ব্যাকলিংকের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি কাজ করে সেটি হলো অ্যাংকর টেক্সট।

অ্যাংকর টেক্সট:

প্রায় প্রতিটি পোস্টের মধ্যেই হাইপারলিংক সহকারে টেক্সট থাকে, যেটি ঐ নিদ্দিষ্ট টেক্সটির রিলেটের পূর্বের কোনো পোস্ট বা অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা সাইটের কন্টেন্টের লিংক বসানো থাকে। আপনি হাইপারলিংক করা টেক্সটির উপর মাউসের কার্সর নিলে যে টেক্সট দেখায় সেটাই অ্যাংকর টেক্সট।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে অ্যাংকর টেক্সট:

বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে ডিরেক্ট ও ইন-ডিরেক্ট অ্যাডভান্টেজ রয়েছে। যেগুলো ওভারকাম করা একজন সফল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজারের দায়িত্ব। আপনাকে যখন একটি ব্লগ পোস্ট লিখতে বলা হয়, সেসময় আপনার কিওয়ার্ড রিসার্স ও অন-পেজ অপটিমাইজেশন জরুরী। আপনার ব্লগপোস্টটিতে অবশ্যই ১/২টি কিওয়ার্ড থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ব্লগারের ক্ষেত্রে যেটি ভুল হয় সেটি হলো তারা কোনো পোস্টে তাদের পুরাতন লেখাগুলোর লিংক করতে গিয়ে এভাবে লেখেন, এখানে পড়ুন, আরো তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন ইত্যাদি। আসলে এগুলো পাঠককে আপনার আগের রিলেটেড লেখায় নিয়ে গেলেও সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এটি কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এর বিপরীতে আপনি আপনি আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ডয়ের দিয়ে অ্যাংকর টেক্সটের মাধ্যমে পুরাতন লেখাটি ব্যাকলিংক করতে পারেন।

এটা শুধু ইন্টারন্যাল লিংকিং নয়, আপনি যখন কোনো ব্লগ বা ফোরামে অতিথি পোস্ট করবেন, আপনি অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে সেখান থেকে অ্যাংকর লিংকের মাধ্যমে আপনার সাইটের ব্যাকলিংক পাবেন। তবে সেটি যেনো অকশ্যই আপনার পোস্ট রিলেটড হয় সেটি খেয়াল রাকতে হবে। এছাড়া অ্যাংকর টেক্সটি এমন হতে হবে যেনো এটি ভিজিটরকে আপনার লিংকে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। টার্গেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহার করলে অ্যাংক টেক্সটি নূণ্যতম ৫০ শতাংশ কার্যকরী হবে ও গুগল অ্যালগরিদম আপডেটে অবশ্যই ভালো ব্যাকলিংক পাওয়া যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে অ্যাংকর টেক্সট যুক্ত করা খুবই সহজ। পোস্টের যে টেক্সটির সাথে অণ্যকোনো পোস্টেও লিংক করাতে চান সে টেস্টগুলো সিলেক্ট করে উপরের দিকে টুলস থেকে Insert/edit link এ ক্লিক করতে হবে। এখন একটি পপ-আপ বক্স আসবে। সেখানে ইউআরএল ঘরে আপনি যে পোস্টটির বা ওয়েব অ্যাড্রেসের সঙ্গে লিংক যুক্ত করতে চান সে পোস্ট বা ওয়েবের লিংকটি লিখতে হবে। এখন নিচে টাইটেল এর ঘরে আপনার কিওয়ার্ড সহ পোস্টটি কি সম্পর্কিত সেটি লিখতে পারেন। এই টাইটেলই আপনার অ্যাংকর টেক্সট। এখন নিচের অ্যাডলিংক বাটনটি ক্লিক করলেই অ্যাংকর টেক্সটটি সহকারে আপনার ব্যাকলিংকটি তৈরি হবে।
নিচের স্কিনশর্টটি দেখলে বুঝতে পারবেন।

অ্যাংকর টেক্সটের ডিরেক্ট ও ইন-ডিরেক্ট লাভ:

পাঠকদের ক্ষেত্রে: পাঠকদের ক্ষেত্রে অ্যাংকর টেক্সটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে। কারণ তারা আপনার পোস্টটি থেকে আরো বেশি রিলেটেড লিংকে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্যটি পেতে পারে। রিলেটেড লিংকটি আপনার সাইটের হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা বেশিক্ষণ আপনার সাইটে ঘোরাঘুরি করবে এবং পেজভিউ বাড়বে। তারা এটা নিশ্চিত হবে যে আপনার সাইটে আসলে নিদিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত প্রায় সব তথ্যই পাওয়া যায়। তবে আপনার লিংকটি রিলেভেন্ট না হলে পাঠক বিরক্তি পাবে। তাই অ্যাংকর টেক্সট যুক্ত করার সময় অবশ্যই এটি সে সম্পর্কিত হতে হবে।

এসইও এর ক্ষেত্রে: এসইও এর ক্ষেত্রে অ্যাংকর টেক্সট খুবই গুরুত্ববহণ করে। পাঠকের দিক থেকে প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করলেই বোঝা যায় এটা এসইওর ক্ষেত্রে কতোটা ভ’মিকা রাখে। অ্যাংকর টেক্সটের একটি ব্যাকলিংকের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনে অনেক ভালো পজিশন পাওয়া সম্ভব। হোমপেজের পরিবর্তে আপনার সাইটের ইন্টারন্যাল পেজের লিংক করলে আরো বেশি সাড়া পাওয়া যায়।

 ঢাঙ্কার লেক।

জমাট নীল আকাশ। সারি সারি নিরেট পাহাড়ের পিছনে বরফ ঢাকা উঁচু পর্বতমালার মতো জড়ানো। এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে নদী।ছোটবেলায় এমন দৃশ্য কতই না এঁকেছি ক্রেয়নে। হিমাচল প্রদেশে যাওয়ার প্ল্যানিং যখন থেকে শুরু হয়েছে, এটাই মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। ঠিক হল, জুনেই যাব হিমাচল। ব্যস, ছয় বন্ধু মিলে হোয়াট্‌সঅ্যাপে প্রতি মুহূর্তে রিসার্চ আপডেট চালাচালি শুরু হয়ে গেল। সকলের অ্যাড্রেনালিন রাশ মোটামুটি তুঙ্গে! দুই পর্যায়ে হল টুর প্ল্যান। প্রথমে ছ’জন মিলে ফাগু, কল্পা পেরিয়ে স্পিতি ভ্যালির কাজ়া শহর পর্যন্ত পাঁচ দিনের রোড ট্রিপ।পরের তিন দিনে স্বামী-আমি মিলে পার্বতী ভ্যালির অন্তর্গত কসোল এবং তোশে রোম্যান্টিক গেট অ্যাওয়ে।

কি মনাস্ট্রির দরজা।
প্রতীক্ষিত দিনটায় কলকাতা থেকে রওনা দেওয়া গেল দিল্লির উদ্দেশে। কিন্তু দিল্লি পৌঁছে গেরোয় পড়লাম। কাকভোরে নির্দিষ্ট গাড়িটি বলে বসল, সে শিমলা-মানালি পর্যন্ত ঘোরাতে পারে। কিন্তু দিল্লি থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দূরে কাজ়া পর্যন্ত মোটেই যাবে না।আমাদের মাথায় হাত। ওই সময়ে অন্য গাড়ি পাব কোথায়? প্যানিক শেষ হলে ঠিক করা হল, ভাড়ার ট্যাক্সি নিয়ে চণ্ডীগড় পর্যন্ত চলে যাওয়া যাক।সেখানেই একটানা একটা রাস্তা পাওয়া যাবে।
চণ্ডীগড় পর্যন্ত যাওয়া গেল সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা পেরিয়ে। জুনের পোড়া রোদে এসি গাড়ির ভিতরে বসেও ব্রহ্মতালু শুকিয়ে যাওয়ার জোগাড়! চালকের চেনা সূত্রে এক পঞ্জাবি ড্রাইভারের সন্ধানও পাওয়া গেল, যিনি কাজ়ার ওই দুর্গম পথে আমাদের নিয়ে যেতে রাজি হলেন।বুকে বল পেলাম। গাড়ি গড়াল মসৃণ হাইওয়ে ধরে। ফার্স্ট স্টপ ফাগু পৌঁছলাম রাত ৯টার আশ পাশে। পরের স্টপ কল্পা।


পরের দিন নারকান্ডা পেরিয়ে খানিক যাওয়ার পর থেকেই পথের সঙ্গী হল সাটলেজ বা শতদ্রু নদী।আরও ১৬০ কিলোমিটার শুধু উৎসাহের ফানুসে ভর করেই কল্পা পৌঁছে গেলাম। পথে পড়ল রেকংপেয়ো। ফোনে ওয়েদার রিপোর্ট বলছে, ৯ ডিগ্রি। কিন্তু হাড় কাঁপানো হাওয়ায় মনে হচ্ছে, মাইনাসে রান করছে!
সকালে দেখা গেল ঝকঝকে রোদ। হাত বাড়ালেই যেন ছুঁয়ে দেওয়া যাবে আইসক্রিম টাবের মতো পর্বতের সারিকে।ফটাফট ফোন বার করে ফেসবুকের ডিপি তুলে নিল সকলে। কল্পা থেকে বেরোনোর মুখেই শুনেছিলাম, কাজ়া যাওয়ার রাস্তা খারাপ। তার উপরে রাস্তাটি (ন্যাশনাল হাইওয়ে ৫০৫) এশিয়ার অন্যতম বিপজ্জনক হাইওয়ে বলেও পরিচিত। যাওয়ার পথে বেশ কিছু ছোট গ্রাম পড়ে। পুহ, নাকো, তাবো। ঘুমন্ত, ছবির মতো। স্লেটের ছাদওয়ালা বাড়ি দিয়ে সাজানো।
কাজ়ায় পৌঁছলাম সন্ধেয়। স্পিতি অনেকটা লাদাখের মতোই শীতল মরুভূমি এলাকা। গাছপালা কম, রুক্ষ প্রান্তর, ছোট ‌উপত্যকা... তবে সে সবদিকে তখন মন দিতে পারছিনা। সাড়ে বারো হাজার মিটার উঁচুতে অক্সিজেনের অভাব টের পাচ্ছিল ফুসফুস। তার উপরে কনকনে ঠান্ডা! মাথায় টিপটিপে একটা ব্যথাও মালুম হচ্ছিল। হাই অল্টিটিউড সিকনেস। হোটেলে পৌঁছেই হিটারের সামনে বসে চা খেয়ে ধাতস্থ হলাম।


কাজ়ায় একটা মজার জিনিস শিখলাম। স্থানীয় ভাষায় ‘জ়ুলে’ শব্দটি ধন্যবাদ, স্বাগত, বিদায়— সবের জন্যই ব্যবহার হয়।স্পিতি ভ্যালি থেকে সুভেনির কিনতে চাইলে কাজ়া মার্কেটে টি শার্ট, স্টোল, কানের দুল পাবেন। সে সব সেরে এগোলাম কি মনাস্ট্রির দিকে।দ্বাদশ শতকে নির্মিত কি গুম্ফা বহু ইতিহাসের সাক্ষী। পৌঁছে দেখলাম খুদে লামারা ক্রিকেট খেলছে! মনাস্ট্রি ঘুরে দেখে এগিয়ে গেলাম কিব্বরের দিকে।ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির ভিতরে গ্রাম। কপালে থাকলে, স্নো লেপার্ডের সাক্ষাৎ মেলে! তবে কপাল বোধহয় ভাল ছিল... তিনি আর দেখা দিলেন না। ইচ্ছে ছিল, পৃথিবীর সব চেয়ে উঁচু পোস্ট অফিসটাও (হিকিম। ১৪,৪০০ মিটার) দেখে আসার। সময় না থাকায় এ যাত্রায় হল না।
কাজ়া থেকে নেমে রামপুরে এলাম রাত টুকু কাটাতে। পরের দিন বাকি চার জনকে বিদায় জানিয়ে, আমরা রওনা দিলাম কসোলের পথে।পার্বতী নদীর ধারে ছোট্ট হিমাচলি শহর। সারি সারি কাফে, পাব, ট্রেন্ডি জামাকাপড়ের দোকান দিয়ে সাজানো কসোল ম্যাল। সর গরম।ইজ়রায়েলি ডিনারে স্নিৎজ়েল আর শাকশুকা খেয়ে সে রাতের মতো হোটেলেই ফিরে এলাম।পরের দিন পৌঁছলাম কসোল থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে ছোট্ট হিমালয়ান গ্রাম তোশে। প্রায় নির্জন। হোটেল পর্যন্ত অল্প হাইকিং করে এগোতে হল।পথে ব্রেক নিয়ে বিখ্যাত জার্মান বেকারিতে কোকোনাট কুকিজ় আর কফি কেক খেয়ে নিলাম। তখন থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। হোটেলে পৌঁছতে না পৌঁছতেই নামল মুষলধারে বৃষ্টি।

পাহাড়ি গ্রাম তোশ।

তোশে দু’দিন বিশ্রামের উপরেই গেল। কলকাতায় ফেরার সময় হয়েই এসেছিল। মন খারাপ। শেষ রাতে বেরিয়ে এলাম হোটেলের ব্যালকনিতে।বৃষ্টি থেমেছে। লোডশেডিং হওয়া তোশ অন্ধকার। কিন্তু তা-ও ঝকঝক করছে! পূর্ণিমার চাঁদ যে আকাশে! তারা বেরিয়ে পড়েছে কয়েক লক্ষ।আর সামনে কালো আকাশের চাঁদোয়া ছেঁড়া জ্যোৎস্নায় ধুয়ে যাচ্ছে হিমালয়... যুগলে হাঁ করে সেই নিসর্গ দেখতে দেখতে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।

ট্রিপ টিপস

ড্রাইভার এবং‌ নিজের সব সরকারি নথি পত্র সঙ্গে রাখবেন। সরকারি গেস্ট হাউস বুক করলে গাড়ির ব্যবস্থা তাঁরাই করে দেন।তবে ভাড়া একটু বেশি পড়ে। হাই অল্টিটিউড সিকনেসের সম্ভাবনা আছে। তাই দরকারি ওষুধ সঙ্গে রাখুন। স্যানিটাইজ়ার এবং হাইজিন প্রডাক্ট সঙ্গে রাখুন।


ওয়ার্ডপ্রেস একটি পিএইচপি ও মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরি উন্মুক্ত প্রযুক্তি ব্লগিং সফটওয়্যার। কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে বর্তমানে এটি সর্বাধিক জনপ্রিয়। বিশ্বের প্রথম সারির ১০,০০,০০০টি ওয়েবসাইটের ১২% এটি ব্যবহার করে। কোনো প্রকার পিএইচপি বা মাইএসকিউএল জ্ঞান ছাড়াই সহজে ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সুবিধা রয়েছে এতে। এজন্য যারা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাদের বেশিরভাগই ওয়ার্ডপ্রেসের সরণাপন্ন হন। তবে ওয়েডপ্রেসে প্রথম কাজ করতে গিয়ে অনেকেরই বিভিন্ন বিষয় না জানার কারণে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রাথমিকভাবে মুখোমুখি হওয়া এমনই সমস্যা নিয়ে এই পোস্ট। সময়ের কারণে আপাতভাবে ১০টি প্রশ্নের সমাধান নিয়ে পোস্টটি দিলাম। আশাকরি এই পর্বের পরবর্তী পোস্টটি খুব শীঘ্রই দিতে পারবো।

১. অ্যাডমিন প্যানেলে প্লাগ-ইন মেনু না দেখা

সমাধান: কয়েকগুলো কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার ব্লগ সাইটটি যদি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম প্লার্টফর্মে হোস্ট করা থাকে তাহলে আপনি কোনো প্লাগ-ইন যুক্ত করতে পারবেন না। এছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলেশনে অ্যাডমিনিস্টেটর লেভেল অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্লাগ-ইন ট্যাব দেখা যায় না।


২. ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাডমিন প্যানেল না দেখা ও ওয়েবসাইটটি সাদা দোখাচ্ছে

সমাধান : ভুল ফরম্যাটে কোনো ওয়েবসাইটের কোড পেস্ট করলে সাধারণত এই সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া কোনো ভুল লোকেশনে কোড পেস্ট করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাডমিন থেকে কোড পরিবর্তন করা বা কোনো মডিফাই করা যাবে না। এজন্য আপনাকে এফটিপি বা ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল এর সাহায্যে ওয়েব হোস্টে লগ-ইন করতে হবে। তারপর থিম মডিফাই করতে হবে।

৩. ওয়ার্ডপ্রেস আপগ্রেড করেছি, কিন্তু কাস্টম ফিল্ড এরিয়া, অথর বা লেখক এরিয়াসহ বেশ কয়েকটি ফিচার দেখতে পারছি না.

সমাধান : ওয়ার্ডপ্রেসের সর্বশেষ সংস্বরণে ইউজার ইন্টারফেসকে আরো সহজ ও অ্যাডমিন ইন্টারফেসকে আরো সহজে দেখার সুবিধা যুক্ত হয়েছে। তবে অ্যাডমি ইন্টারফেসে কয়েকটি সুবিধা ডিফল্টভাবে বন্ধ করে রেখেছে। তবে এই সমস্যা সহজেই দুর করতে পারেন। এজন্য আপনার অ্যাডমিন প্যানেলের ডান পাশে উপরের দিকে তাকান। স্কিন অপশন নামে একটি ট্যাব পাবেন। এখান থেকে আপনি কোন কোন ফিচার দেখতে চান সেটি নির্বাচণ করে দিতে পারবেন।

৪. টাইটেল বা ইমেজের পাশে ফেসবুক লাইক বাটন কাজ করছে না

সমাধান: এটা ওয়ার্ডপ্রেসের কোনো সমস্যা নয়। এটার কারণ হলো, আপনার ওয়েবসাইটটি ফেসবুক স্কিপ্ট থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছে না, বা স্কিপ্টে ভুল আছে। তবে, ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগ-ইন আছে, যার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার ফেসবুককে আপনার ওয়েবের সাথে ইন্ট্রিগ্রেশন বা যুক্ত করতে পারবেন। প্লাগ-ইনটি ইনস্টল করুন ও ফেসবুকের সাথে সহজেই কানেক্ট করুন। এক্ষেত্রে আপনাকে কোনো কোড পরিবর্তণ করা লাগবে না। এছাড়া আপনি ওয়ার্ডপ্রেস এসইও প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফিচার বিল্ট ইন আছে। ফলে সহজেই এই সমস্যা সমাধান হবে।


৫. আমার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট খুবই ধীরগতির, কিভাবে স্পিড বাড়াবো

সমাধান: ওয়ার্ডপ্রেস সাইট বেশ কয়েকভাবেই দ্রুতগতির করা যায়। প্রথমত আপনি ক্যাশিং প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারেন, এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি প্লাগ-ইন হলো ডব্লিউথ্রি টোটাল ক্যাশ। এছাড়া আপনি কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার ব্যবহার করতে পারেন, যারা আপনার সাইটে ব্যবহৃত ইমেজ, ভিডিও বা অন্যকোনো ভারি কনন্টেন্ট দ্রুতভাবে ডেলিভারি দেয়। আপনাকে অবশ্যই ভালো ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডারের হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে। আপনার হোস্টিংটা যেনো শেয়ারর্ড হোস্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন, কারণে এ ধরণের হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে ডাটা ডেলিভারি অপেক্ষাকৃত ধীরগতির হয়। আপনি যদি অনেক ট্রাফিক পান, তাহলে অবশ্যই ভিপিএস অথবা ডেডিকেটেড সার্ভার ব্যবহার করতে পারেন।


৬. ওয়ার্ডপ্রেসে কিভাবে গুগল অ্যানালাইটিক্স ইনস্টল করবো?

সমাধান: ওয়ার্ডপ্রেসে সাধারণত গুগল অ্যানালাইটিক্স ব্যবহার করা যায় না। এক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেসেরই নিজস্ব স্ট্যাটিক্স ফিচার রয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম স্ট্যাটস নামের এ ফিচারটি ড্যাশবোর্ড থেকে সহজেই দেখা যায, যার মাধ্যমে আপনি আপনার ট্রাফিকের বিভিন্ন তথ্য পাবেন।


৭. ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে ইমেইল সাবক্রিপশন সেট আপ করা

সমাধান: ইমেইল সাবক্রিপশনের দুইটি উপায় রয়েছে। এেেক্ষত্রে বিনামুল্যের একটি উপায় হলো ফিডবার্নার ব্যবহার করা। এছাড়া মেইলচিম্প প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারেন ও আরএসএস টু ইমেইল ক্যাম্পেইন সেটআপ করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি ২০০০ ইমেইল পর্যন্ত সবক্রিপশন বিনামুল্যে করতে পারবেন। এরবেশি ইমেইল সাবক্রিপশন করতে আপনাকে অবশ্যই পে করতে হবে।


৮. ওয়ার্ডপ্রেস পোস্টে ভিডিও যুক্ত করা

সমাধান : আপনি পোস্ট করার সময় এইচটিএমএল ভিউতে গিয়ে পোস্টেও যেখানে ভিডিওটি অ্যামবেড করতে চান সেখানে ইউটিউব থেকে পাওয়া অ্যামবেড কোডটি যুক্ত করতে পারেন। এছাড়া অন্য কোনো সাইট বা আপনার নিজস্ব মিডিয়া লাইব্রেরি থেকে যুক্ত করতে চাইলে প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি প্লাগইন এফএলভি অ্যামবেড।


৯. ওয়ার্ডপ্রেসে লাইটবক্স পপ-আপ যুক্ত করা

সমাধান : লাইটবক্স পপ-আপের অনেক প্লাগ-ইন রয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পিপ্পিটি। এটি পেইড প্লাগ-ইন হলেও আপনার প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়ই পাবেন এতে। এছাড়া গুগলে সার্চ করলে আরো বেশ কিছু লাইটবক্স প্লাগ-ইন পাবেন।


১০. কম্পিউটারে কি ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করা সম্ভব?

সমাধান : হ্যা, কম্পিউটারে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করা সম্ভব। যারা ইন্টারনেট বা ওয়েবছ্ড়াাই ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে চান তাদের জন্য এ সুবিধাটি রয়েছে। তবে আপনার তৈরি করা ওয়েবসাইট কাউকে দেখাতে হলে অবশ্যই ওয়েব হোস্টিং লাগবে।
আজ এই পর্যন্তই। ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রাথমিক সমস্যা এবং এর সমাধান নিয়ে হাজির হব পরবর্তী পর্বে।

ওয়ার্ডপ্রেস একটি পিএইচপি ও মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরি উন্মুক্ত প্রযুক্তি ব্লগিং সফটওয়্যার। কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে বর্তমানে এটি সর্বাধিক জনপ্রিয়। বিশ্বের প্রথম সারির ১০,০০,০০০টি ওয়েবসাইটের ১২% এটি ব্যবহার করে। কোনো প্রকার পিএইচপি বা মাইএসকিউএল জ্ঞান ছাড়াই সহজে ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সুবিধা রয়েছে এতে। এজন্য যারা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাদের বেশিরভাগই ওয়ার্ডপ্রেসের সরণাপন্ন হন। তবে ওয়েডপ্রেসে প্রথম কাজ করতে গিয়ে অনেকেরই বিভিন্ন বিষয় না জানার কারণে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রাথমিকভাবে মুখোমুখি হওয়া এমনই সমস্যা নিয়ে এই পোস্ট।

ওয়ার্ডপ্রেসের প্রাথমিক সমস্যা ও সমাধান

আসুন জেনে নিই ওয়ার্ডপ্রেসের পরবর্তী সমস্যা ও সমাধানগুলো নিয়ে...


১১. কিভাবে পেজে যুক্ত করার জন্য গ্যালারিতে ইমেজ আপলোড করা যায়?

সমাধান : ওয়ার্ডপ্রেসের কোনো পোস্টে বা পেজে ইমেজ বা ছবি যুক্ত করার জন্য এর বিল্ট ইন গ্যালারি রয়েছে। তবে আপনি যদি আপনার অ্যালবাম বা গ্যালারিকে নিজের মতো করে সাজাতে চান তাহলে নেক্সটজেন গ্যালারি প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারেন।


১২. কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেসে স্লাইডার তৈরি করা যায়?

সমাধান : ওয়ার্ডপ্রেসে স্লাইডার তৈরির জন্য হাজার হাজার ফ্রি ও পেইড প্লাগ-ইন আচে। তবে ব্যবহারের সুবিধার্তে জনপ্রিয় স্লাইডডেক। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকএন্ড থেকে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

১৩. কিভাবে কনট্যাক্ট ফর্ম তৈরি করতে হয়?

সমাধান : ওয়ার্ডপ্রেসে কনট্যাক্ট ফর্ম তৈরির জন্য বিনামুল্যের অসাধারণ একটি প্লাগ-ইন কনট্যাক্ট ফর্ম ৭। তবে বাড়তি ফিচার হিসেবে আরো কিছু পেতে চাইলে গ্রাভিটি ফর্মস ব্যবহার করতে পারেন। এই প্লাগ-ইনটির মাধ্যমে আপনি পেমেন্ট পাওয়া, ইমেইল ক্যাপচার করাসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে।


১৪. রাইট নাউ উইজেটের সুবিধা কি কি?

উত্তর : রাইট নাও উইজেটের মাধ্যমে আপনি কতগুলো পোস্ট হয়েছে, কতগুলো পেজ আছে, কতগুলো কমেন্ট হয়েছে, কতগুলো ক্যাটাগরি আছে, কতগুলো ট্যাগ আছে, কতগুলো কমেন্ট অ্যাপ্রুভ করার জন্য ওয়েট করতেছে, কতগুলো স্প্যাম ধরা পড়েছে ইত্যাদি জানতে পারবেন। আপনি কোন ভার্সন ব্যবহার করছেন, আপনি কোন থিম ব্যবহার করছেন। কতগুলো উইজেট ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ আপনি আপনার সাইটের তুলনামূলক একটা রিপোর্ট পাবেন। আপনি এখান থেকে পোস্ট, কমেন্ট, পেজ ইত্যাদি আপনার প্রয়োজনমত সংকলন বা পরিমার্জন করতে পারবেন।

১৫. কিভাবে প্লাগ-ইন ইনস্টল করা যায়?

আপনি প্রথমে প্লাগইন ডাইরেক্টরীতে যান। সেখানে সার্চ বক্সে কাংখিত প্লাগ-ইনটির নাম লিখুন এবং সার্চ করুন। প্লাগ-ইনটি নিচে শো করবে। সেখান তেকে ওহংঃধষষ বাটনে ক্লিক করুন। প্লাগ-ইনটি ইনস্টল হলে অ্যাক্টিভেট বাটনে ক্লিক করে সক্রিয় করুন।

আমরা  রঙ্গিন এক দুনিয়াতে বসবাস করি। তাকিয়ে দেখুন নীল আকাশ, সবুজ প্রান্তর, সাদা মেঘ, লাল গোলাপ, সোনালী রোদ্দুর, নীল অপরাজিতা, কাল কোকিল সবই আপনাকে আকর্ষনের চেষ্টা করছে। ভেবে দেখেছেন কি, সবুজ বৃন্তে লাল গোলাপ অথবা  নীল আকাশের নীচে হলুদ-কমলা সূর্যমুখী কেন বেশী ভালো লাগে?  কেন ?
আচ্ছা ভেবে দেখুন তো,
হলুদ রঙয়ের রুমে আপনার মাঝে অজানা উদ্বিগ্নতা কাজ করে কি?
কিংবা, নীল রং আপনার মাঝে কি শান্ত এবং স্বচ্ছন্দতার অনুভূতি জাগায়?
রংয়ের পরিবর্তন আমাদের মন, মেজাজ,আবেগ এবং অনুভূতিতে আসলেই কি নাটকীয় কোন পরিবর্তন আনতে পারে? 
উত্তর হল হ্যা, রংয়ের পরিবর্তন আমাদের মন, মেজাজ,আবেগ এবং অনুভূতিতে আসলেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজতে গিয়ে আর্টিষ্ট এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররাও অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন।


এখন আসি, আমরা কেন বিচিত্র সব রঙ দেখি!!!

আসলে উৎস হতে নিক্ষিপ্ত আলো যখন বস্তুর উপর পতিত হয় তখন এর কিছু অংশ  বস্তু কর্তৃক শোষিত হয় এবং অবশিষ্ট অংশ প্রতিফলিত হয়। এই এই প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে বিভিন্ন রঙের অনুভুতির সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে একেক বস্তুকে আমরা একেক রঙে দেখতে পাই।
সহজাতগতভাবেই আমাদের মন রংয়ের প্রতি সংবেদনশীল, নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনেও রং আমাদের চিন্তা ও আবেগকে খুব সহজে নাড়া দিতে পারে। তাই কোন ডিজাইন যে গোপন অর্থ বহন করে সেটা তাৎক্ষনিকভাবে বুঝে নিতে রং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে রং একটি পাওয়ারফুল কমিউনিকেশন টুল, শুধুমাত্র কালার ইফেক্টের ব্যবহার মানুষের মাঝে কেনাকাটার মত অভ্যাসেও বিস্তর পরিবর্তন আনতে পারে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, কিছু রং মানুষের ব্লাড প্রেসার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি অনলাইন শপিং, এডভার্টাইজিং, মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে প্রায় ৮০ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতার আকর্ষণ বাড়াতে রংয়ের ব্যবহারকে উল্লেখযোগ্য বিবেচনা করা হয়।
তাই নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনে যে পার্টগুলো গ্রাফিক ডিজাইনারেরা ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী হল কালার বা রঙ। এজন্যেই সঠিকভাবে জেনে রংয়ের ব্যবহার করা ফটোগ্রাফার, গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

মনের উপর রঙের প্রভাব

রঙয়ের ব্যবহার যেহেতু মানুষের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে বিরাট ভূমিকা পালন করে তাই কালার ইফেক্টের কিছু সার্বজনীন অর্থও রয়েছে। তাই গ্রাফিক ডিজাইনে বিভিন্ন রঙয়ের ব্যবহার কি অর্থ বহন করে সেটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। বিভিন্ন রং আমাদের মনে বিভিন্ন অনুভুতির সৃষ্টি করে,  তাই রঙ এবং এর ব্যবহারে হতে হয় সতর্ক ।চলুন জেনে নিই মনের উপর বিভিন্ন রঙ এর ভূমিকা কেমন হতে পারে।

সাদাঃ

শুদ্ধতা ও শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা রং এর ব্যবহার বিশ্বজনীন। ডিজাইনে এই রঙটি সাধারণত রিভার্সড টেক্সট কিংবা নেগেটিভ স্পেসিং এ বেশী ব্যবহৃত হয়, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ(WWF) এর লোগোটা দেখুন, আশা করি পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন।


মানুষের মনে সাদা রঙ সাধারণত যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ পরিচ্ছন্নতা, সত্যনিষ্ঠ, শান্তি, শুদ্ধতা, স্বচ্ছতা, সরলতা।
নেতিবাচকঃ শূন্যতা, উদাশীনতা।

কালোঃ

সাদার পরই যে রঙ এর কথা আসে সেটা হল কালো। সাধারণ কিন্তু কর্তৃত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী একটি রঙ। সম্পদশালী এবং সুরুচিপূর্ণতাকে যেমন তুলে ধরে তেমনি অশুভ ভয় এবং বিষন্ন ভাবের প্রতিকৃতি মনে জাগিয়ে তুলে। আবার এর শৈল্পিক ব্যবহার মনে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক বাধা সৃষ্টি করে যেন মনে হবে আপনার দিকে আসা সকল অপশক্তিকে শুষে নিচ্ছে।
সাধারণত কালো রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ বোল্ডনেস, কর্তৃত্ব, বিশুদ্ধতা, নিয়মানুগত্য, রহস্য, গুরুত্বপূর্ণ ।
নেতিবাচকঃ ভয়, নিপীড়ন, উদাসীনতা।

 সবুজঃ

নতুন জীবন এবং নতুনের মতো করা বুঝাতে সবুজ রঙের ব্যবহার উল্লেখ করার মত। সবুজ রঙ মনে যেমন প্রশান্তি ও স্বচ্ছন্দতা জাগিয়ে তুলে তেমনি অপরিপক্কতাকেও তুলে ধরে। প্রায়ই বিভিন্ন কোম্পানীর লোগোতে এই রঙের ব্যবহার চোখে পড়ে, বিষেশত যারা নিজেদেরকে ইকো-ফ্রেন্ডলি হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। এনিমেল প্ল্যানেট চ্যানেলের লোগোটি এর বড় উদাহরণ।


সাধারণত সবুজ রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ টাটকা, প্রাকৃতিক, ছন্দ, সুস্বাস্থ্য, নিরাময়।
নেতিবাচকঃ কোমলত্ব, একঘেয়েমি।

লালঃ

সবচেয়ে লম্বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হওয়ায় লাল বেশ শক্তিশালী একটি রং, তাই খুব দূর থেকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। লাল রঙের এই ধর্মের কারণেই ট্রাফিক লাইটে এর ব্যবহার বিশ্বব্যাপী। লাল এমন একটি গাঢ় রঙ যা মানুষের মনে ভালবাসার মত তীব্র আবেগ জাগানো থেকে শুরু করে ব্লাড প্রেসার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। লোগো ডিজাইনে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।


সাধারণত লাল রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ সাহসিকতা, প্রবলতা, উষ্ণতা, শক্তি, ফাইট অর ফ্লাইট, উদ্দীপনা, উত্তেজনা।
নেতিবাচকঃ আক্রমনাত্মকতা, আগ্রাসন, মানসিক চাপ সৃষ্টি।

নীলঃ

নীল এর সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট লাল এর পুরুই উল্টোটা, কারণ লাল রং কাজ করে ফিজিক্যালি আর নীল রং কাজ করে মেন্টাললি। নীল রং খুব সহজেই মনের মাঝে শান্ত করার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে। বেশীরভাগ মানুষেই একটা ব্যাপারে একমত যে, ডিজাইনে অন্তত একটা নীল শেড থাকলেও সেটা তাদের প্রিয় হয়ে উঠে। বেশীরভাগ মানুষের প্রিয় রং নীল, তাই নীল রং কে বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রিয় রং বলা হয়। এমনকি রিসার্চেও এটা প্রমাণিত হয়েছে।
নীল রঙ মানুষের মনে যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ বুদ্ধিদীপ্ততা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রশান্ত ভাব, আস্থা, প্রত্যয়, নির্মলতা, বিশ্বাস।
নেতিবাচকঃ নির্লিপ্ততা, আবেগশূন্যতা।

হলুদঃ

অত্যন্ত দৃষ্টিগোচর একটি রং এবং দেখার জন্য সব থেকে সহজতম রং। তাই খুব সহজেই মানুষের মাঝে উদ্দীপনা জাগাতে পারে। হলুদ রং এর সঠিক ব্যবহার আমাদের মনে যেমন প্রফুল্লতা এবং আত্মসম্মানবোধকে জাগিয়ে তুলে তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার ভয় এবং উদ্বিগ্নতাকে জাগিয়ে তুলে।


মানুষের মনে হলুদ রঙ যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ আত্মমর্যাদা, বুদ্ধিদীপ্ততা, আগ্রহ, আনন্দ, ইতিবাচকতা, সূর্যোদয়।
নেতিবাচকঃ নির্লিপ্ততা, আবেগশূন্যতা।

বাদামীঃ

লাল, হলুদ এবং কাল এর সমন্বয়ে রঙটি গঠিত। এর ফলে বাদামী রং মস্তিস্কে কালো রঙের মতই প্রভাব ফেলে কিন্তু এটি তুলনামূলকভাবে উষ্ণ এবং কোমলতার অনুভূতি জাগায়। বাদামী রংকে বলা হয় প্রকৃতির রং, এই রঙটি প্রাকৃতিক বা অর্গানিক বস্তুর সাথে সম্পর্কিত। বেশীরভাগ ডিজাইনাররাই পিউর ব্ল্যাক ব্যবহার করার চেয়ে বাদামী রং ব্যবহারের সাজেশন দিয়ে থাকেন।
মানুষের মনে বাদামী রঙ যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ গুরুত্ব, আন্তরিকতা, প্রাকৃতিক, নির্ভরযোগ্যতা, সাপোর্ট।
নেতিবাচকঃ রসবোধের অভাব, রাশভারী।
কোন রং মানুষের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে সেটা অনেকখানি নির্ভর করে কিভাবে কোথায় রঙটি ব্যবহৃত হয়েছে, তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনে রঙের ব্যবহার এবং সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট জানার পরই যে বিষয়টি চলে আসে সেটা হল রং এর ব্যবহার।  গ্রাফিক্স ডিজাইনে রং এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে আরও কিছু বিষয় আগে জানা লাগবে। সেগুলো মধ্যে একটি হল রং এর শ্রেণীবিভাগ –

অনেক আগে লাল, হলুদ এবং নীল এই তিন রংকে মৌলিক রং বলে ধরা হয়। রং কে আবার ভাগ করা হয়েছে এইভাবে –
১) First Order Colours
২)Second Order Colours
৩)Third-Order Colours

First Order Colours- এই রঙ গুলি হলো Red, Yellow, blue লাল, হলুদ এবং নীল অন্য কোন রং মিশ্রনে তৈরী করা যায় না।

Second Order Colours – এই রংগুলি হলো Red, Yellow, blue লাল, হলুদ এবং নীল এই তিন রঙের মিশ্রনে তৈরী হয়। যেমন – কমলা, সবুজ, বেগুনী।

Third-Order Colours- যা  Second Order Colours  এবং মৌলিক রং এর মিশ্রনে তৈরী হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে রং নিয়ে খেলা করতে চাইলে আরও কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া লাগবে। সেগুলো হচ্ছে-
১.Complementary Colors
২.Simultaneous Contrast
৩.Complementary Ratios
৪. Harmonizing Colors.
এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করুন, রং এর ব্যবহার সম্পর্কে আরেকদিন বিস্তারিত আলোচনা করবো। আপডেট পেতে চোখ রাখুন এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এ।

পরিশেষে বলা যায় প্রতিটি রংই মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষজ্ঞদের গবেষনায় দেখা গেছে প্রতিটি রং মানুষের মনে কিভাবে প্রভাব ফেলে সেটার অনেকখানি মানুষের ব্যক্তিত্ব, সমাজ এবং পারিপার্শ্বিকতার উপরও নির্ভর করে। তাই রং কিভাবে মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলে সেটা নিয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে।

মেনরোড থেকে বাঁদিকে ঘুরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গেলে চূর্ণারেঞ্জ। এর অনেকটাই গভীর জঙ্গলের  পথ, মাঝখানে বেশ কয়েকবার বিভ্রান্ত হয়ে গাড়ি থামিয়ে এদিক-ওদিক একটু বোঝার চেষ্টা করে আবার যাত্রা শুরু। ফোনের নেটওয়র্ক নেই, জিপিএস কাজ করছে না,  একটু পরেই সন্ধে নামবে। রাস্তা ভীষণ খারাপ, মাঝে মাঝে নেই বললেই চলে। গাড়ির ড্রাইভার জঙ্গলে বিশেষ সড়গড় নন, তাই স্টিয়ারিং আমার হাতে। এই অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ চলার পরে এল কয়েকটা ঘর নিয়ে একটা ছোট গ্রাম। সেখান থেকে রাস্তা বুঝে নিয়ে,  সন্ধে হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই চূর্ণা ...সাতপুরা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি রেঞ্জ।

 মধ্য প্রদেশ জঙ্গলের গহীনে 

ভারতের খুব কম ব্যাঘ্র প্রকল্পেই এতখানি ভিতরে এখনও বুকিং করে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। চারপাশে জঙ্গল, মাঝে এক অংশ ঘিরে বনবিভাগের বিশ্রামাগার। কাঁটা তারের বেড়া জায়গায় জায়গায় উধাও হয়ে গিয়েছে। সৌরবাতিই ভরসা। আর মোবাইলের সংযোগ একটা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অসম্ভব। জঙ্গলের আদিম রূপ যাঁদের রক্তে ঢেউ তোলে, তাঁদের জন্য চূর্ণা!
সবে ঢুকেছি, হঠাৎই পিছন থেকে দল বেঁধে কাদের যেন ছুটে আসার আওয়াজ। সেই সঙ্গেই জঙ্গলের লোকদের ‘হুটহুট’ চিৎকার— সব মিলিয়ে একটা রোমহর্ষক ব্যাপার! পিছন ফিরতেই দেখি, একদল হরিণ তির বেগে ছুটে আসছে অতিথিনিবাসের দিকে।আর তার পিছনেই এক পাল বুনো কুকুর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেড়ার গা ঘেঁষে যেন ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিকের একটা দৃশ্যের শুটিং হয়ে গেল।হরিণের পায়ের আওয়াজ দূরে মিলিয়ে যাওয়ার পরে জঙ্গলের এক কর্মী বললেন, ‘‘লাগতা হ্যায় এক বাচ্চে কোমার দিয়া।’’ শুনতে খারাপ লাগলেও প্রকৃতির ভারসাম্য দাঁড়িয়ে আছে এই খাদ্য-খাদক সম্পর্কের উপরেই।

 মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে কাঠবিড়াল

ঝুপ করে অন্ধকার নেমে গেল চারদিকে। সৌরবাতির টিমটিমে আলোয় সব কিছু দেখা না-দেখার মাঝখানে। ঘরের বাইরে বসে চা খাচ্ছি, হঠাৎই কেউ একজন এসে বলে গেল, পা-টা চেয়ারে তুলে বসতে, রান্নাঘরের কাছে সাপ দেখা গিয়েছে। পা তুলে বসবকী, ছুটলাম রান্নাঘরের দিকে।কালাচ সাপের ভয়ানক বিষ। বড় সাপ নয়, কিন্তু কামড়ালে আর দেখতে হবে না। একজন জঙ্গল কর্মী সাপটাকে পা দিয়ে ঠেলে বালতিতে ভরে, উঠোনের বেড়ার বাইরে দিয়ে আসার চেষ্টা করলেন। কর্মীদের বিশ্বাস, ওর ক্ষতি না করলে, ও কাউকে কিছু করবে না।তাই শান্তি পূর্ণ সহাবস্থানে সাপ বা মানুষ, কারও আপত্তি নেই।
পরের দিন খুব ভোরে বেরোনো, তাড়াতাড়ি শুতে হবে। হঠাৎই একেবারে ঘরের কাছে গভীর কীসের যেন একটা আওয়াজ।প্রথমে বিশ্বাস না হলেও একটু পরেই বুঝলাম, ওটা বাঘের ডাক! একদিক থেকে আর একদিকে সরে সরে যাচ্ছে। অতিথিনিবাসের গেট খোলা... টর্চ নিয়ে এক পা বেরোতেই পা যেন আর নড়ছে না, সঙ্গে সঙ্গে ভিতরে। আরও লোকজন আলো নিয়ে চলে আসতেই গভীর আওয়াজটা ক্রমে মিলিয়ে গেল।

দিনের বেলা খুব গরম। বহুক্ষণ এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরির পরে হঠাৎ করেই রাস্তার ধারে গাছের তলায় একটা বুনো কুকুরের পাল। জঙ্গলে এখন আমরা ছাড়া আর কেউ নেই বললেই চলে। খুব লোভ হচ্ছিল, জিপ থেকে নেমে চোখের দৃষ্টি বরাবর একটা শট নেওয়ার। তাই নীচের রাস্তায় যেন কিছু একটা পড়ে গিয়েছে— এই বাহানায় গাড়ি থেকে নেমে সোজা মাটিতে। আর ড্রাইভার উঠতে বলার আগেই শাটারে আঙুল পড়ছে বারবার। তবে ‘তাড়াতাড়ি করুন’ কানে আসতেই সোজা গাড়িতে। পরে বুঝেছি, কাজটা মোটেই ঠিক হয়নি। জঙ্গলে গিয়ে জঙ্গলের নিয়ম মেনে চলাটাই হল একমাত্র আরণ্যক নীতি।
পরের দিন অনেক ঘুরেটুরে তবে একটা ক্রেস্টে ডহক ইগল দেখতে পেলাম। রোদ থেকে বাঁচতে উঁচু একটা গাছের ডালে বসে সে যেন জিরিয়ে নিচ্ছে কিছুক্ষণ। কিছু বুনো শুয়োর দেখি এদিকে-ওদিকে ঘুরছে। একটা খরগোশ দু’পা উঁচু করে আর কান খাড়া করে শুনছিল আমরা কী বলছি ওদের নিয়ে। চোখাচোখি হতেই নিমেষে উধাও।

সাতপুরা জঙ্গলের আর একটা রেঞ্জ মাধাই। দেনওয়া নদীর পারে মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের অতিথিনিবাসের ঠিক উল্টোদিকে মাধাই বনবিভাগের বিশ্রামাগার। যাকে বলে, প্রাথমিক সুবিধেটুকু একেবারে হাতের নাগালে। বিকেলের দিকে রোদের তাপ একটু কম।একটা বড় ঘাসজমিতে আপন মনে চরে বেড়াচ্ছে একদল গাউর অর্থাৎ ইন্ডিয়ান বাইসন। সামনেনদী...  এই নদীর উলটোদিকে গতকাল একটা বড়সড় বাইসনকে তিনটে কমবয়সি বাঘ একজোট হয়ে শিকার করেছে, সঙ্গে তাদের মা-ও ছিল। রোদ কমলে যদি তারা বেরোয়,  এই আশায় রোদ মাথায় নিয়ে সকলের বসে থাকা বহুক্ষণ। সেই বাইসনটার আধখাওয়া লাশ দেখা যাচ্ছে অনেক দূরে, কিন্তু ‘তাদের’ দেখা নেই। হঠাৎই আমাদের গাইডের চোখ নদীরও পারে একটা পাথুরে জমির উপরে। দেখি, হলুদ ডোরা কাটা একটা শরীর! ঠিক একটু আগেই যেন ঘুম ভেঙেছে,  সেই ভঙ্গিতে পাথর টপকে ধীরে ধীরে একেবারে লাশটার কাছে। একটু পরে আরও একটা। সামনে মস্ত বাইসনটা পড়ে থাকতে দেখে,  আনন্দে ওরা মাটিতে গড়াগড়ি খেল বেশ কিছুক্ষণ। বাকি একটা আর মায়ের আজ আর খবর নেই। অথচ আজকের মতো আমাদের সময় শেষ। অন্ধকার নামার আগেই তাই ফিরে এলাম সবাই।

সাতপুরা... সাতটা পাহাড় দিয়ে ঘেরা জঙ্গলে শাল, সেগুন, তেন্ডু, মহুয়া, বেল ইত্যাদি কত যে গাছ আর বাঁশের ঝোপে ভরা চারিধার। শোনা যায়, তাঁতিয়া টোপির খোঁজে এসে এই জঙ্গল আবিষ্কার করেন এক ইংরেজ সাহেব। চূর্ণার পুরনো ফরেস্ট রেস্টহাউস গুলো শুনলাম স্বাধীনতার অনেক আগে তৈরি। আসলে জঙ্গলের ভিতরে চূর্ণা নামে একটা গ্রাম ছিল আগে। এখন গোটা গ্রাম সুদ্ধসবারই পুনর্বাসন হয়েছে অন্যান্য জায়গায়। গ্রামের চিহ্ন বলতে রয়েছে শুধু পালে পালে গরু... সংখ্যায় নাকি প্রায় দশ হাজার ছিল। কিন্তু দিনে দিনে ক্রমশ কমে আসছে বাঘ কিংবা চিতা বাবাজিদের জন্য। গরুগুলো ফেলে যাওয়ার অন্যতম কারণ শুনলাম। পুনর্বাসনের পরে প্রায় পাণ্ডববর্জিত কোনও জায়গায় ছোট একটা ঘরে বাস করে, খাবার কিনে গরু-বাছুর পোষার বিলাসিতা করার মতো অবস্থা তাঁদের নেই তাই গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়ে এতদিনের সুখদুঃখের সঙ্গীদের বাঘের মুখে ছেড়ে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। বনবিভাগের বিশ্রামাগারে কাজ করা স্থানীয় মানুষদের বুকে কান পাতলে এখনও সেই কষ্টটের পাওয়া যায়।

 মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

মাধাইয়ের জঙ্গলের বিশ্রামাগারের সামনে নদীতে এখন জল প্রায় নেই বললেই চলে। সরুনদীর উপরেই বানানো হয়েছে পায়ে হাঁটার নড়বড়ে ব্রিজ। ওর উপরেই আমাদের ফেরার গাড়ি। পিছন ফিরে তাকাতে হঠাৎ মনে হল, নদীতে যেন দু’কূল ছাপিয়ে জল এসেছে। একটু আগের সরু নদীটাই ভয়ানক রূপ নিয়েছে এখন। তাই চেনাই যায় না। প্রচণ্ড গরমে চোখে সর্ষেফুলের বদলে শুকিয়ে যাওয়া নদীতে দু’কূল ছাপানো জল দেখছি। পাশ থেকে এই জঙ্গলেরই কেউ একজন কাকে যেন হিন্দিতে বলল, ‘‘বর্ষায় এই নদীর ভয়ানক রূপ... নৌকো ছাড়া পারাপার অসম্ভব।’’  শুনে চমকে উঠলাম। এ-ও কি সম্ভব? বর্ষা আসার আগেই আমার চোখে বর্ষার নদীর রূপ। এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম আর গাড়িতে যেতে যেতে ভাবছিলাম, বিশাল এই পৃথিবীর কতটুকুই বা আমরা জানি?
আপাতত নাগপুর থেকে কলকাতার উড়ানের খবরটাই শুধু আমার জানা। তাই দেরি করার কোনও গল্পই নেই। দেনওয়ানদী, সাতপুরা, চূর্ণা, নধাই— নানা রকম মুখের সারি মনের ভিতরে জাবর কাটতে কাটতেই গাড়ি সোজা এয়ারপোর্টে।
মনে রাখবেন
এখানকার প্রকৃতি ভীষণ শুষ্ক। তাই প্রচুর জল খেতে হবে। খাওয়াদাওয়া খুব সাধারণ। রুটি, ডাল, সবজি পাওয়া যায়। মশার উপদ্রব খুব বেশি। তাই মসকিউটো রেপেল্যান্ট সঙ্গে রাখবেন। সানস্ক্রিন লোশনও নিতে ভুলবেন না। বাঘ দেখা মুখ্য উদ্দেশ্য হলে গরমের সময়ে যান। নভেম্বর-ডিসেম্বরে এই জায়গার ল্যান্ডস্কেপ ভারী সুন্দর।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আমাদের দেশের একটা কমন রোগ। তবে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কিন্তু আসলে এটা কোন রোগ না। এটা সাধারণত কিছু বদভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। অন্য যেকোন রোগের চেয়েও এটা মাঝে মাঝে খারাপ আকার ধারণ করতে পারে। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একদিনে হয়তো পুরোপুরি নিরাময় হবেনা। কিন্তু ক্রমাগত অভ্যাস করে গেলে আপনি একদিন পুরোপুরি এসিডিটি মুক্ত থাকতে পারবেন। আসুন এই আর্টিকেল থেকে জেনে নেই কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন অতি সহজে।


গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বিষয়টি আসলে কী ?


বৈজ্ঞানিকভাবে যে জিনিসটিকে গ্যাস্ট্রিক বলা হয়, সেটির আসল নাম হচ্ছে পেপটিক আলসার ডিজিজ বা পিইউডি। পাকস্থলী, ডিওডেনাম ও ইসোফেগাস—এই তিনটির যেকোনো জায়গায় যদি অ্যাসিডের কারণে ক্ষত হয়, এটাকে বলে পেপটিক আলসার ডিজিজ। এবং যখন বলা হচ্ছে গ্যাস্ট্রিক আছে, তখন বোঝা যাচ্ছে, তার পেপটিক আলসার রয়েছে। এটা পাকস্থলী বা ডিওডেনামে হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কেন হয়?

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা তে আক্রান্ত ব্যক্তি বা রোগীর বেলায় বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে বা ভাজা-পোড়া-তেলজাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। নন-আলসার ডিসপেপসিয়া, এটাতে গ্যাস হয় বেশি, জ্বালা হয় বেশি, পেট ফুলে থাকে বেশি—সেটাতে ভাজা-পোড়া সাংঘাতিক ক্ষতিকর। তবে যদি এটি আলসার হয়ে থাকে, যেহেতু আলসারের একটি চিকিৎসা রয়েছে এবং অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াও এরা ভালো হয়ে যায়, এ জন্য এখানে অনেক বেশি সমস্যা হয় না। তবে ওই খাবারগুলো লক্ষণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যাঁর ব্যথা রয়েছে, তাঁর ব্যথাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যাঁর জ্বলা রয়েছে, সেটা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই বিষয়গুলো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য আজকাল চিকিৎসার বিষয়টি এমন দিকে যাচ্ছে যে ব্যক্তির যা মনে চায় তাই খাবে, চিকিৎসক শুধু ওষুধ দিয়ে ভালো করে দেবে। খাওয়ার সীমাবদ্ধতা ছাড়া চিকিৎসা করতে চাই। আমরা আশা করছি, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এমন চিকিৎসা এসে যাবে, যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে খাবারের বেলায় বাছতে হবে না।

নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাবারের কথা বলতে গেলে, রিফ্লাক্স বলে মানুষের শরীরে একটি জিনিস রয়েছে, আমি যদি প্রতিদিন ২টার সময় ভাত খাই, একদিন যদি না খাই সে সময়ে পেট অ্যাসিডে ভর্তি হয়ে যাবে। তবে আমি যদি সেখানে দেরি করে খাই, আমার লক্ষণটা বেড়ে যাবে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার উপকার রয়েছে। আমাদের শরীর একটি অভ্যাসের মধ্যে চলে যায়। অভ্যাসের ব্যতিক্রম হলেই সমস্যা হয়। তবে ডিওডেনাল আলসার যেটা, সেখানে যদি প্রায় প্রায় খাবার দেওয়া হয়, তাঁদের লক্ষণগুলো কমতে সাহায্য হয়। তবে এখন যেই চিকিৎসা পেপটিক আলসারের রয়েছে, এখানে খাওয়ার বিষয়ে বাছতে হবে না। এর পরও আমরা বলি, আপনার যেটা খেলে অসুবিধা মনে হয়, সেটি এড়িয়ে যান।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার উপায়ঃ

আদার ব্যবহার :
আদাতে এমন কিছু উপাদান আছে যার কারনে আপনার বদ হজম, জ্বালা পোড়া, বুকে ব্যথা কমে যেতে পারে। দেখুন এটির ব্যবহার
১ নং পদ্ধতি : আদা কুচি কুচি করে কেটে পানির মধ্যে মিশিয়ে তারপর পানি ফুটান । পানি ফুটানো হলে তা ১০ মিনিটের মতো নামিয়ে রাখুন এবং দিনে ২/৩ বার চায়ের মত পান করুন । এটির সাথে মধু মিশালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
২ নং পদ্ধতি : আদা বেটে রস করুন এবং এটি মধুর সাথে মিশিেয়ে দুপুর ও রাতের খাবারের আগে খেয়ে নিন।
৩ নং পদ্ধতি : আপনার যখন ইচ্ছা হয় তখন একটু আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার শরীর ঠান্ডাও থাকবে।

দইয়ের ব্যবহার:
আপনি প্রতিদিন একটু করে দই খান। পেটের ব্যাকটেরিয়া দুর করে । ব্যাকটেরিয়া হরো গ্যাস্ট্রিক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারন। কলা, মধু আর দই একসাথে মিশিয়ে এটি প্রতিদিন খা্ইতে পারেন।
আলুর ব্যবহার: গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আলুর রসের ব্যবহার করতে পারেন।
১ নং পদ্ধতি: আলু বেটে রস করে নিন। এরপর আলুর রস আর গরম পানি একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন দুপুর ও রাতের খাওয়ার দু ঘন্টা আগে খেয়ে নিন।

পানির ব্যবহার :
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পানির ব্যবহার। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে একদম খালি পেটে পুরা পেট ভর্তী করে পানি পান করুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ পার করলেই উত্তম ফল পাবেন।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা নিয়ে শেষ কথাঃ

গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে জীবনযাপনের ধরন এবং খাবার-দাবারের সম্পর্ক খুবই কম। এগুলো নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। যেমন—দক্ষিণ ভারতের লোকেরা খুব বেশি ঝালজাতীয় খাবার খায়। ওখানে মানুষকে আধা কেজি করে ঝালজাতীয় খাবার প্রতিদিন দিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে আলসার বেশি হয়নি। সাধারণ লোকের যেমন রয়েছে, ওদের মধ্যেও তাই রয়েছে। বেশি ঝাল খাওয়ায় কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে যার গ্যাস্ট্রিক আছে, তার ঝাল খেলে লক্ষণগুলো বেশি প্রকাশ পেতে পারে। গ্যাস্ট্রিক আছে, তবে চিকিৎসা নেই, ঝাল খাচ্ছে, ওই সময়ে একটু বেশি হতে পারে। তবে ঝাল খেলে গ্যাস্ট্রিক হবে, সেটি ঠিক নয়।

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget